যেমন দেখেছি মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামিকে


এহসানুল হক ৷৷

পৃথিবী থেকে এক সময় সবাইকেই চলে যেতে হবে। তবুও কিছু মৃত্যু আকস্মিক। যা হতবিহ্বল করে দেয় সবাইকে। মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামির মৃত্যু তেমনি অপ্রত্যাশিত। তিনি সিনিয়র রাজনীতিবিদ ছিলেন। কিন্তু বয়োবৃদ্ধ ছিলেন না। তিনি অসুস্থ এমন খবরও শুনিনি। সদাতৎপর কর্মউদ্দমী সক্রিয় এই মানুষটা এভাবে চলে যাবে কেউ কল্পনাও করেনি। আজ সন্ধ্যায় যখন শুনলাম তিনি আর নেই বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়েছে।

মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামি ইসলামি রাজনীতির সাথে যুক্ত আছেন পাকিস্তান আমল থেকে। হাফেজ্জি হুজুরের ছায়ায় খেলাফত আন্দোলন করেছেন। শাইখুল হাদীসের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ইসলামি ঐক্যজোটের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। আর মুফতি আমিনীর ছিলেন মহাসচিব। সর্বশেষ তিনি ইসলামি ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই পরিচয়গুলো সবার জানা।

কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না, ইসলামি রাজনীতিবিদদের মধ্যে তিনি একজন উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি ছিলেন। এক সময় সাংবাদিকতা করেছেন। ইংরেজি দৈনিক পিপলসে সাব-এডিটর হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া সাপ্তাহিক বাংলার মুখ, দৈনিক শক্তিসহ বেশ ক’টি পত্রিকায় তিনি সহসম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে রাজনীতি সক্রিয় হলে সাংবাদিকতা ছেড়ে দেন।

আব্দুল লতিফ নেজামি সাহেব শাইখুল হাদীস রহ. এর স্নেহধন্য ছিলেন। তিনি সব সময়ই বলতেন-আমার নাম নেজামি রেখেছেন শাইখুল হাদীস রহ.। একবার শাইখুল হাদীস সাহেবসহ একটা মিটিং এ আমরা বসেছি। সেখানে আব্দুল লতিফ নামে বেশ কয়েকজন ছিলেন। ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলনের একজন আব্দুল লতিফ চৌধুরি। কৃষক শ্রমিক পার্টির ছিলেন আব্দুল লতিফ মজুমদার। আরেকজন ছিলেন জমিয়তুল মুদাররিসিনের আব্দুল লতিফ নামে। এরপর আব্দুল লতিফ হাওলাদার নামে আরেকজন ছিল। তাই শাইখুল হাদীস সাহেব আমার নামের শেষে নেজামি লাগিয়ে দেন। আমি যেহেতু নেজামে ইসলাম পার্টি করতাম তাই নেজামি নামটা দিয়ে ছিলেন। হুজুর এই নামে আমাকে ডাকা শুরু করলেন। তারপর থেকে আমি এই নামে পরিচিত হতে শুরু করি।

শাইখুল হাদীস রহ. এর জীবনি সংকলনের কাজে আমি মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামি সাহেবের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি দীর্ঘ একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। কাছ থেকে দেখেছি শাইখুল হাদীস রহ. এর প্রতি তার মুগ্ধতা ও ভালোবাসা। আমি প্রায় পঞ্চাশজনের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। শাইখুল হাদীস রহ. এর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে যে কয়জনের চোখ আমি অশ্রুসজল দেখেছি তার মধ্যে একজন হলেন মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামি। শাইখুল হাদীস রহ. এর সাথে তার কারাবরণের সেই গল্প সম্ভব হলে আগামীকাল শুনাবো। বরেণ্যদের চোখে শাইখুল হাদীস নামক প্রকাশিতব্য গ্রন্থে সবগুলো সাক্ষাৎকার পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।

মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামির শেষ সময়ের রাজনীতি নিয়ে যত প্রশ্ন- এক্ষেত্রে আমি মনে করি ব্যক্তি নেজামি সাহেবের চেয়ে তার দলের ভুমিকা বেশি। ভালো মন্দ যেটাই হোক তার কৃতিত্ব বা ব্যর্থতা তার দলের। তিনি দলের প্রধান থাকলেও তার হাতে কতটুকু ক্ষমতা ছিল তা কারো অজানা নয়। সুবিধাভোগের রাজনীতি করতে চাইলে অনেক বিত্তবৈভবের মালিক তিনি হতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। সারা জীবন সৎ রাজনীতি করলেও শেষ সময়ে প্রশ্নবিদ্ধ ভুমিকা থেকে তিনি কেনো বের হয়ে আসতে পারলেন না সেই প্রশ্নের উত্তর অজানাই থাকলো। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। তিনি তার ত্রিশবছরের সচ্ছ সৎ রাজনৈতিক ভুমিকার বিচারেই মূল্যায়িত হবেন এই কামনা করি। আল্লাহ পাক তার সমস্ত ভুলত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাতের উচুঁ মাকাম দান করেন এই দোয়া করি।

লেখক : সহকারী সম্পাদক,রাহমানী পয়গাম ৷

জাগো প্রহরী/ফাইয়াজ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য