মসজিদে নববীতে জুমার খুতবায় যা বলা হলো


জাগো প্রহরী : শুক্রবার (১৫ মে) জুমার খুতবায় মদিনার মসজিদে নববীতে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ের ওপরে আলোচনা করা হয়েছে। জাগো প্রহরীর পাঠকদের জন্য আরবি আলোচনার বাংলা প্রকাশ করা হল।

খতীব: শাইখ ড. আলী বিন আব্দুর রহমান হুযাইফী
বিষয়: গুরুত্বপূর্ণ মূহুর্তগুলোই আমলের উপযুক্ত সময়
অনুবাদ : হারুনুর রশীদ ত্রিশালী

আপনারা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করুন; তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে নৈকট্য লাভ করে এবং হারাম পরিহার করে তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি থেকে বেঁচে থাকার মাধ্যমে।

হে মুসলমানগণ!
আল্লাহ তায়ালা আপনাদের ওপর এই বরকতময় রমজান মাসে অগণিত বরকত ও কল্যাণ প্রবাহিত করে দিয়েছেন, বিভিন্ন রকম সৎকাজের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন, হারাম ও মাকরূহ কাজ থেকে হেফাযত করেছেন। আর মৃত্যুর পরে আপনাদের জন্য আপনাদের রব যে প্রতিদান রেখেছেন তাতে মোমিন বান্দারা আনন্দিত হয় এবং তা পাওয়ার জন্য প্রতিযোগীরা ভালো কাজে প্রতিযোগিতা করে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, বলুন, ’এটা আল্লাহর অনুগ্রহে ও তাঁর দয়ায়; কাজেই এতে তারা যেন আনন্দিত হয়। ’ তারা যা পুঞ্জীভূত করে রাখে তার চেয়ে এটা উত্তম।

অতএব আপনারা একের পর এক সৎকাজ সম্পাদন করুন। বিশেষ করে রমজানের শেষাংশে আরো বেশি ভাল কাজের প্রচেষ্টা করুন এবং সৎ আমলকে বিনষ্টকারী বা তার সওয়াবকে হ্রাসকারী অন্যায় ও পাপকর্ম থেকে দূরে থাকুন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে ঈমানদাগণ, তোমরা আল্লাহর এবং তার রাসূলের অনুসরণ কর। আর তোমরা তোমাদের আমলকে বিনষ্ট করো না।

আমাদের রব পরম করুণাময় ও দয়ালু। তিনি আমাদের জন্য সৎকর্ম ও কল্যাণমূলক কাজের যাবতীয় দ্বার উম্মুক্ত করে দিয়েছেন; যেন আমরা জীবনে অধিক পরিমাণে পূণ্য অর্জন করতে পারি। আপনি তো জানেন না, কোন আমলটি কবুল হবে এবং বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা আপনাকে বিপদ ও ভয় হতে রক্ষা করবেন। আল্লাহ বলেন, হে মুমীনগণ, তোমরা রুকু কর, সেজদা কর এবং তোমাদের রবের ইবাদত কর ও সৎকাজ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।

আবু যার (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ”রাসূল (সা.) আমাকে বলেন, তুমি কোনো ভালো কাজকে তুচ্ছ মনে করো না, এমনকি সেটা তোমার কোনো মুসলিম ভাইয়ের সাথে হাসিমুুখে সাক্ষাৎ করা হোক না কেন। (সহীহ মুসলিম)

যে ব্যক্তি সফলতা, উৎকর্ষতা ও চিরসূখের স্থায়ী জীবন পেতে চায় সে যেন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে এবং বরকতপূর্ণ রাত্রিগুলোতে সৎ আমলসমূহ সম্পাদন করে। কেননা যা গত হয়ে গেছে তা কখনো ফিরে আসবে না, আর গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোই হচ্ছে আমল সম্পদান করার সময়। আর কল্যাণমূলক কাজ সম্পাদনই প্রত্যাশিত।

আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল ( সা.) বলেছেন, সাতটি জিনিস প্রকাশ হওয়ার পূর্বেই তোমরা ভালো কাজের দিকে অগ্রসর হও।

তোমরা কি অপেক্ষা করছো এমন দারিদ্রতার যা অমনোযোগী (অক্ষম) করে দেয়, অথবা এমন প্রাচুর্যের যা ধর্মদ্রোহী বানিয়ে ফেলে, অথবা এমন রোগ-ব্যাধির যা শারিরীক সামর্থ্যকে ধ্বংস করে দেয়, অথবা এমন বৃদ্ধাবস্থার যা জ্ঞান বুদ্ধিকে বিনষ্ট করে দেয়, অথবা এমন মৃত্যুর যা আচমকা সংঘটিত হয়, অথবা দাজ্জালের যা অপেক্ষমান অনুপস্থিত বিষয়ের মধ্যে নিকৃষ্টতর, অথবা কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার যা অত্যন্ত বিভীষিকাময় ও তিক্তকর। ( সুনান তিরমিযি) ইমাম তিরমিযি হাদিসটিকে হাসান বলেছেন।

হে মুসলমানগণ, আপনারা এখন এই বরকতপূর্ণ মৌসুমের শেষ দশকে অবস্থান করছেন। আর আমলের ভালো-মন্দ নির্ভর করে তার শেষ অবস্থার উপর, ’লাইলাতুল ক্বদর’ও এই দশকেই ভ্রাম্যমান থাকে। এর রাত্রিগুলো জেগে ইবাদত করার তৌফিক যে ব্যক্তি পায় তার পূর্বের গুনাহগুলো মাফ করে দেয়া হয়। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ’লাইলাতুল ক্বদরে’ ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রাত জেগে ইবাদত করে, তার পূর্বের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (বুখারী ও মুসলিম)

প্রত্যেক মুসলিমই এ রজনীর বরকত ও কল্যাণ লাভ করতে পারে। এ রাতের ইবাদত ’লাইলাতুল ক্বদর’ বিহীন হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। এটা শুধু এই উম্মতের জন্যই নির্দিষ্ট। তা আল্লাহরই অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছে তিনি এটা দান করেন, আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহের অধিকারী।

হে মুসলমানগণ,
উম্মতের ওপর হতে বিপদ উঠিয়ে নেওয়ার জন্য আপনারা আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করুন। কেননা এই সম্মানিত মাসে আল্লাহ তায়ালা আপনাদের দোয়া কবুল হওয়ার প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। আল্লাহর কাছে আপনাদের উত্তম আমলের অসিলা গ্রহণ করুন, কেননা তা দোয়া কবুলের অন্যতম মাধ্যম। দয়াময় আল্লাহর কাছে অনুনয় বিনয় প্রকাশ করুন যেন তিনি বিশেষ করে এই দেশ থেকে এবং সাধারণভাবে সকল মুসলিম দেশ হতে এই মহামারীকে উঠিয়ে নেন। সেই সাথে তিনি যেন সকল বান্দাদের ওপর থেকে এটাকে উঠিয়ে নেন। কেননা মহান রব সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

পক্ষান্তরে মানবজাতি দুর্বল ও অক্ষম; তারা নিজেদেরই কোনো উপকার বা ক্ষতি সাধন করতে পারে না। আল্লাহ বলেন, আর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে অতিশয় দুর্বল করে। তিনি আরো বলেন, তোমরা বিনীতভাবে ও গোপনে তোমাদের রবকে ডাক; নিশ্চয় তিনি সীমালংঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না। আর জমিনে শান্তি স্থাপনের পরে তোমরা সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না। আর আল্লাহকে ভয় ও আশার সাথে ডাক। নিশ্চয়ই আল্লাহর অনুগ্রহ মুহসিনদের খুব নিকটে।

জাগো প্রহরী/এফ আর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য