রমযান-ঈদ উদযাপন নিয়ে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর বিশেষ সাক্ষাৎকার


জাগো প্রহরী : মাহে রমযান। সিয়াম-সাধনার মাস। ইবাদত-বন্দেগিতে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং পাপ মাফ করার পবিত্র মাস।

রমযান মাসে কোন আমল সবচে' উপকারি, করণীয়-বর্জনীয় কি কি, যাকাত প্রদান পদ্ধতি ও শরীয়তসম্মত ঈদ উদযাপনসহ নানা দিক নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, দেশের অন্যতম ইসলামিক ব্যক্তিত্ব, বিদগ্ধ মুহাদ্দিস, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসার সহকারি মহাপরিচালক, শাইখুল হাদীস আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইশতিয়াক সিদ্দিকী। 

★ আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী: ওয়ালাইকুম আসসালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ

★ মাহে রমযান চলছে। আমরা কিভাবে অধিক পরিমাণে ইবাদত করতে পারি?

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী: পবিত্র রমযান মাস চলছে ৷ আমাদের উচিত হবে, যতটুকু সম্ভব হাতের কাজ হালকা করা ৷ অধিনস্থদের কাজের বোঝা ও দায়িত্ব কমিয়ে দেয়া ৷ সবমিলিয়ে প্রত্যেক নারী-পুরুষের উচিত রমযানের দিনগুলি আমলের জন্য ফারেগ করা ৷ বিশেষ করে বর্তমানে প্রায় সকলে বাড়িতে অবস্থান করছি। বেশি বেশি আমলের মাধ্যমে এ সময়ের মূল্যায়ন করতে পারি।

★ রমযান মাসে কোন কোন আমল বেশি করা উচিত?

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী: রমযান মাস কুরআন নাযিলের মাস ৷ তাই বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করা উচিত ৷ পাশাপাশি বেশি বেশি তওবা-ইস্তিগফার করা। যিকির করা। তাহাজ্জুদ ও সালাতুত তাসবীহ আদায় করা। সামর্থানুযায়ী দান-সদকা করা।

★ রমযানে দেশব্যাপী কুরআন শিক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয় ৷ কার্যক্রমগুলো কিভাবে দেখছেন ?

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী: আলহামদুলিল্লাহ, বিভিন্ন মসজিদ-মাদরাসা ও সংগঠনের উদ্যোগে বয়স্ক, ও মেয়ে-শিশুদের কুরআন প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয় ৷ এটা অত্যন্ত প্রশংসার বিষয় ৷ প্রতিটি গ্রাম, মসজিদ-মাদরাসায় এমন প্রশংসনীয় উদ্যোগ নেয়া উচিত ৷ কুরআন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল শিখার ব্যবস্থা করা দরকার ৷

★ রমযান মাসে শারীরিক কষ্টের কথা বলে, স্বাস্থ্যহানীর কথা বলে অনেকে রোযা ছেড়ে দেয় ৷ এ বিষয়ে কী বলেন?

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী: রোযা শরীয়তের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম ফরজ বিধান ৷ যা প্রত্যেক বালেগ মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ ৷ যারা বিনা ওজরে রোযা রাখে না তারা প্রকৃত মুসলমান হতে পারে না ৷ মূলত সিয়াম-সাধনা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয় বরং চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে শরীরের জন্য খুব উপকারী কাজ ৷

★ ঈদের খুশিটা কিভাবে উদযাপন শরীয়তসম্মত ?

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী: ঈদ হলো, আল্লাহর পক্ষ হতে মুসলিম উম্মাহকে খুশি উদযাপনে দেয়া বিশেষ উপহার ৷ ঈদের দিনে আমরা মা-বাবা, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ-খবর নিবো ৷ যাকাত-ফিতরা আদায় করবো ৷ সব মিলিয়ে একটি সুখময় সমাজ তৈরিতে চেষ্টা করবো ৷

কিন্তু ইদানিং ঈদের দিনগুলোতে দেখা যায়, আনন্দের নামে তরুণ-তরুণীরা এমনকি মহিলারা পর্যন্ত রাস্তা-ঘাটে-পার্কে বেপর্দা ঘুরে বেড়ায় ৷ বিভিন্ন অশ্লীলতায় মেতে উঠে ৷ মিডিয়াগুলো বিনোদনের নামে অশ্লীলতার দিকে আহ্বান করে ৷ এসব গর্হিত কাজ ইসলাম কখনই সমর্থন করে না ৷ ঈদের আনন্দের নামে এসব পরিহার করা প্রত্যেক মুসলমানের একান্ত কর্তব্য ৷

★ প্রতিবছর লাখো মানুষ যাকাত দিচ্ছে কিন্তু দরিদ্রতা কমছে না ৷ করণীয় কী ?

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী: বাংলাদেশে লাখ-লাখ ধনী মানুষ আছে যাদের উপর যাকাত ফরজ ৷ অনেকে পূর্ণভাবে যাকাত দিচ্ছে না ৷ যদি সব ধনীরা যাকাত আদায় করতো তাহলে দেশে দারিদ্রতা থাকতো না৷ অন্য দেশের কাছে ঋণ নিতে হতো না৷ আমাদের দেশ নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারতো ৷
আর যারা যাকাত দিচ্ছে তাদের যাকাতে দরিদ্রদের চেহারা পরিবর্তন হচ্ছে না ৷
আমি মনে করি, সরকারি যাকাত খাতকে আরও শক্তিশালী ও বেগবান করতে হবে ৷ আর ব্যক্তি উদ্যোগে যেসব যাকাত দেয়া হচ্ছে তাতে সমন্বয় সাধন করা উচিত ৷ প্রয়োজনে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নেয়া যায় ৷

প্রচলিত ধারায় জন-জন শাড়ী-লুঙ্গি দেয়ার পাশাপাশি তালিকাভিত্তিক ব্যক্তিদের হাঁস-মুরগি-ছাগল বা অন্য কিছু কিনে দেয়া যায় অথবা নগদ টাকা দেয়া যাতে তারা সাবলম্বি হতে পারে ৷ বিশেষ করে করোনার এ মুহূর্তে বিত্তবানদের উচিত অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো।

★ আপনার মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

জাগো প্রহরী/গালিব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য