সালাফদের চোখে মহামারি


আইনুল হক কাসিমী ৷৷

● শাইখ দাউদ ইবনে আবু হিন্দ বলেন--
একবার আমি মহামারিতে আক্রান্ত হলাম। আমার হুঁশ ছিল না। বেহুঁশ অবস্থায় স্বপ্নে দেখলাম, দুজন লোক এসেছেন আমার কাছে। একজন বসলেন আমার শিয়রের পাশে, অপরজন পায়ের কাছে। একজন অপরজনকে জিজ্ঞেস করলেন,
-এই অবস্থার পরিত্রাণের জন্য তুমি কী আমল করতে হবে মনে করো?
-এর আমল আমি মনে করি তাসবিহ, তাকবির, মসজিদে গমন আর কুরআন তিলাওয়াত করা। 

এরপর দুজন লোকই বলে উঠলেন, ইনার সময় এখনও হয়নি। অত:পর দুজনেই দাঁড়ালেন, এরপর চলে গেলেন। 

দাউদ ইবনে আবু হিন্দ বলেন, এই ঘটনার পর আমি সুস্থ হয়ে উঠলাম। তারপর থেকেই আমি কুরআন তিলাওয়াতে মশগুল হয়ে পড়লাম। একসময় হাফেজ হয়ে গেলাম। এর আগে আমি আমি কুরআন হিফজ করিনি। [১]

● ইমাম ইবনে কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ বলেন--

মহামারির সময়ে অপরিহার্য হলো শান্তশিষ্ট ও প্রশান্তিভাব অবলম্বন করা। জনসমাগমের হুলুস্থুল পরিবেশ স্বাভাবিকতায় নিয়ে আসা। সর্বোপরি যতটুকু সম্ভব, ততটুকু নড়াচড়া না করা; ঘরে আবদ্ধ থাকা। [২]

● ৮৭ হিজরিতে গোটা শাম জুড়ে দেখা দেয় মহামারি। একসময় তা ইরাকে এসে ছড়ায়। ইতিহাসে যাকে তাউনে ফিতয়াত বলা হয়। প্রায় ঘরের সব সদস্য মরে সাফ হয়ে যেত। লোকেরা আগেবাগেই কবর খুঁড়ে রাখত। এমনকী প্রসিদ্ধ তাবেয়ি বুশাইর ইবনে কাব বিন আবু হিময়ারি নিজের বসতঘরে কবর খুঁড়ে নিলেন। অত:পর সেখানে প্রবেশ করে কুরআন তিলাওয়াত করতে রইলেন। একসময় তিনিও মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে পড়লেন। খননকৃত কবরেই তাকে দাফন করা হলো। [৩] 

● প্রসিদ্ধ তাবেয়ি মাসরুক ইবনুল আজদার স্বভাব ছিল, যখন মহামারি দেখা দিত, তখন তিনি ঘরে অবস্থান করতেন। তিনি বলতেন, এই দিনগুলো হলো ব্যস্ততার। ইবাদত-বন্দেগির জন্য ব্যস্ত হতে আমি পছন্দ করি। এরপর থেকেই তিনি ঘরের এক কোণে ঠাঁই নিতেন। সেখানেই ইবাদতে ডুবে রইতেন। তার সহধর্মিণী বলেন, অনেক সময় আমি তার পেছনে বসতাম। তার কষ্টক্লিষ্ট ইবাদত দেখে কেঁদে ফেলতাম। তিনি এত দীর্ঘ নামাজ পড়তেন যে, তাঁর পাদুখানা ফুলে যেত! [৪] 

● হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি বলেন--

প্লেগ ও মহামারির উপকারিতাসমূহের মধ্য থেকে কিছু উপকারিতা হলো এই--

আশা-আকাঙ্ক্ষা হ্রাস করা। 
আমল সুন্দর করা।
গাফলতি থেকে সজাগ হওয়া
মৃত্যুর সফরের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করা। [৫] 
--------
সূত্রাবলি :
[১] সিয়ারুস সালাফ : ৭৫৬, আবু নুআইম আস্ফাহানি।
[২] যাদুল মাআদ : ৪/৪০, ইমাম ইবনুল কায়্যিম। 
[৩] আত-তাওয়ায়িন গিল আসরিল উমাওয়ি : ৬৭, আহমাদ আদাওয়ি। 
[৪] আত-তাবাকাতুল কুবরা : ৬/৮১, ইমাম ইবনে সাদ। 
[৫] বাজলুল মাউন ফি ফাজলত তাউন : ৩৮৭, ইবনে হাজার আসকালানি।

জাগো প্রহরী/গালিব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য