প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পেতে বিলম্ব: নষ্ট হচ্ছে ভারতের যুদ্ধ ক্ষমতা


জাগো প্রহরী : পশ্চিমের সীমান্তে তীব্র লড়াই সত্বেও এ বছর ভারতের সামরিক আধুনিকায়ন কর্মসূচি বড় ধরণের আঘাতের মুখে পড়বে কারণ তাদের সরঞ্জামাদি পেতে দেরি হচ্ছে এবং তহবিলের ঘাটতি রয়েছে। প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, যে সব অস্ত্র ব্যবস্থার ব্যাপারে চুক্তি হয়েছে, বিভিন্ন দেশে চলমান লকডাউনের কারণে সেগুলোর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের সেগুলো পেতে দেরি হবে।

প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো স্পুটনিককে বলেছে যে, ফরাসী রাফাল জঙ্গি বিমানগুলো চলতি বছরের জুলাই নাগাদ ভারতের পাওয়ার কথা থাকলেও সেটা আরও পেছানো হয়েছে। ফ্রান্সের কাছ থেকে ৩৬টি রাফাল জঙ্গি বিমান কেনার জন্য ভারত ৮.৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে।

কিন্তু মহামারীর কারণে সৃষ্টি জরুরি পরিস্থিতির কারণে বিমান যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিধিনিষেধের কারণে ভারতীয় বিমান বাহিনীর পাইলটদের প্রশিক্ষণের বিষয়টি থমকে আছে। বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার পর এই প্রশিক্ষণ শেষ হতে দুই মাস লাগবে।

পাকিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি যে সব বিমান ঘাঁটিতে রাফালগুলো মোতায়েন করা হবে, লকডাউনের কারণে সেই সব ঘাঁটিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সেপ্টেম্বরের মধ্যে পৌঁছানোর বিষয়টিও অনিশ্চিত হয়ে গেছে।

ফরাসী সরকার শনিবার ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা চলমান স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা আরও বর্ধিত করবে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার সিদ্ধান্ত আরও দীর্ঘায়িত করা হবে যাতে দেশ থেকে কোভিড-১৯ পুরোপুরি নির্মূল করা যায়।

প্রথম ব্যাচের চারটি রাফাল জঙ্গি বিমান ছাড়াও ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে আরও যে ১৪টি বিমান সরবরাহের কথা ছিল, সেটা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জঙ্গি বিমান ছাড়াও ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীগুলোর বহুল আকাঙ্ক্ষিত অ্যাপাচি, চিনুক ৪৭ এফ (আই), এবং এম-৭৭৭ কামান পেতেও দেরি হবে, যেগুলো তারা চীন সীমান্তে মোতায়েন করবে।

এ বছর অন্তত পাঁচটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভারতের পাওয়ার কথা ছিল, যেগুলো পশ্চিম সীমান্তে মোতায়েন করার কথা।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে এম-৭৭৭ আলট্রা-লাইট কামান সরবরাহও লকডাউনের কারণে পিছিয়ে গেছে। ব্যাচের বাকি কামানগুলো কবে সরবরাহ হবে, সেটি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২০১৬ সালের নভেম্বরে ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের ১৪৫টি কামান কেনার চুক্তি করে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে যে ৫০টি কে-৯ ১৫৫ মিলিমিটারের স্ব-চালিত কামান পাওয়ার কথা ছিল, চলমান মহামারীর কারণে সেটিও স্থগিত হয়ে গেছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা অমিত কাউশিশ স্পুটনিককে বলেন যে, বিভিন্ন সরঞ্জামাদি সরবরাহে যে বিলম্ব হচ্ছে, সেটা চলমান দীর্ঘমেয়াদি আধুনিকায়ন কর্মসূচিকে সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত করবে।

 সূত্র : স্পুটনিক

জাগো প্রহরী/গালিব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য