দোয়া করেন স্বাভাবিক জীবনে যেন ফিরতে পারি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


জাগো প্রহরী : বিশ্বব্যাপী মহামারী আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দেশবাসীকে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সবাই যেন শিগগির স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন সে প্রত্যাশা করেনে সংসদ নেতার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চোখে দেখা যায় না এমন কারোনাভাইরাসের কারণে আজ মানুষ ঘরবন্দি। এটা এমন একটা বিষয় কতদিন চলবে কেউ বলতে পারছে না। সারা বিশ্বেও কেউ বলতে পারছে না। কেউ বলছে শীতকালে ভাইরাসটি থাকে, গরমে থাকবে না। এখন আবার বলছে গরমেও থাকবে। কেউ কিছু বুঝতে পারছে না। গতকাল শনিবার (১৮এপ্রিল) একাদশ জাতীয় সংসদের সপ্তম অধিবেশনে সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ অধিবেশনে দীর্ঘ করোনা মহামারী থেকে রক্ষায় আল্লাহ তা‘আলার কাছে কায়মনোবাক্যে মোনাজাত করেন ডেপুটি স্পিকার এটিএম ফজলে রাব্বী মিয়া।

মাত্র সোয়া ঘণ্টা স্থায়ী ছিল এ অধিবেশন। সাংবিধানিক বাধ্য-বাধকতার কারণে গতকাল শনিবার বিকেল ৫টার পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই অধিবেশন শুরু হয়। সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় শেষ হওয়া এই অধিবেশন প্রধান ইস্যু ছিলো করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সতর্কতা। করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও সাধারণ ছুটির মধ্যে আহুত এই অধিবেশনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ স্বল্প সংখ্যক সংসদ সদস্য অংশ নেন। তবে সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী এবং বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও উপনেতা গেলাম মোহাম্মদ কাদেরসহ সিনিয়র সংসদ সদস্যরা অনুপস্থিত ছিলেন।

অধিকাংশের মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাভস ও মাথায় ক্যাপ ছিলো। সংসদ পরিচালনায় দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও একই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সংসদ ভবনের প্রবেশমূখে সকলকেই জীবাণু নাশক স্প্রে করা হয়। সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের তাপমাত্রা মাপা হয়। এছাড়া নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে সকল পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা প্রাকৃতিক অনেক বড় দুর্যোগ মোকাবিলা করেছি। কিন্তু স্বাস্থ্যখাতে এত বড় ঝড় আমরা মোকাবিলা করিনি। এখনো বাংলাদেশ অন্য দেশ থেকে ভালো আছি। তবে আমি একটু আমার দেশের মানুষকে বলবো, আসলে আমাদের দেশের মানুষ যে এত সাহসী হয়ে গেছে। বউ নিয়ে বেড়াতে গেল শ্বশুরবাড়ি শিবচর, সেখান থেকে টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে হাজির। আমরা সবাইকে বলি, যে যেখানে আছেন সেখানেই থাকেন।

সংসদ নেতা বলেন, এই ভাইরাসটি মুখ থেকে আসে। কথা থেকে ছড়ায়। এই যে এখানে সংসদ সদস্যরা সবাই মাস্ক পরে আছেন, সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন। নিজে সুরক্ষিত থাকেন। অপরকেও সুরক্ষিত রাখেন। সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, সকলেই আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। কাবা শরিফ মদিনা শরিফেও কারফিউ দেওয়া হয়েছে। কাজেই মসজিদে না গিয়ে ঘরে বসে আল্লাহকে ডাকেন। যেন আমরা বিশ্ববাসী এই ভাইরাস থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারি, স্বাভাবিক কাজে ফিরতে পারি।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরুতেই বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরেন। করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকসহ মৃত্যুবরণকারী অন্যান্যদের জন্য শোক প্রকাশ করেন। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও অধিবেশন ডাকার কারণও ব্যাখ্যা করেন। সম্ভাব্য সকল স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন স্পিকার।

ডেপুটি স্পিকার এটিএম ফজলে রাব্বী মিয়া শোক প্রস্তাবে মৃত্যুবরণকারী সবার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন। দীর্ঘ হৃদয়গ্রাহী মোনাজাতের বেশিরভাগ ছিল করোনার মহামারী থেকে মুক্তি পেতে আল্লাহ তা‘আলার কাছে ফরিয়াদ। করোনাকে ‘গজব’ আখ্যা দিয়ে তিনি এর হাত থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসীকে রক্ষা করতে আল্লাহর কাছে মিনতি করেন।

অন্য সময়ের চেয়ে এদিনের মোনাজাতটি ছিল বেশি ভাবগাম্বীর্যপূর্ণ। উপস্থিত সংসদ সদস্যদের সবাইকে কাতর হয়ে মোনাজাতে অংশ নিতে দেখা গেছে। প্রায় ৭ মিনিট স্থায়ী মোনাজাতকালে সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বেশ কাতরভাবে ‘আমিন’ ‘আমিন’ বলতে শোনা যায়।

করোনার মহামারী থেকে জাতিকে রক্ষার আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ! গোনাহের কারণে যদি এই গজব দিয়ে থাকেন তাহলে আমাদের মাফ করে দেন। এই গজব থেকে রক্ষা করুন। আল্লাহ আপনি তো বলেছেন ‘কুন ফাইয়াকুন’ আপনি বলার সঙ্গে সঙ্গে সব হয়ে যায়। আপনি আমাদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করুন।’ ব্যক্তিগত জীবনে ধার্মিক ডেপুটি স্পিকারকে মোনাজাতে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়তে দেখা যায়।

পরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সরকারি কর্ম কমিশনের বার্ষিক রিপোর্ট উত্থাপন করেন।

 জাগো প্রহরী/টিআরখিঠি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য