সরকারের প্রতি দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরামের মসজিদ উন্মুক্ত করে দেয়ার আহ্বান


"প্রাণঘাতী মহামারী নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবরোধে সরকারি ঘোষণার পর থেকে মসজিদে নামাজ ও জামাত আদায় নিয়ে চলমান বিতর্কের অবসান ঘটাতে আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুইটি জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামাগণ। একটি বৈঠক সকালে মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীর আহ্বানে বারিধারায় অনুষ্ঠিত হয় আর অপরটি দুপুরে হাইআতুল উলয়ার আহ্বানে মতিঝিলে অনুষ্ঠিত হয় ৷"

বৃহস্পতিবার হাইয়াতুল উলইয়ার বৈঠকে ওলামায়ে কেরামের সর্বসম্মত পরামর্শের আলোকে সরকারকে ৪ দফা পরামর্শ দিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ওলামাগণ।

বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে ওয়াক্তিয়া, জুমা, তারাবীহ এর জন্য সীমিত পরিসরে, সীমিত সময়ের জন্য মসজিদ উন্মুক্ত রাখা, মসজিদ কখনো তালবদ্ধ না করা, ইমাম খতিবদের হয়রানি না করা ও ৫/১০ জনের সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

উভয় বৈঠকে উপস্থিত থাকা মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের সর্বোচ্চ অথরিটি হাইআতুল উলয়ার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হওয়া বৈঠকে হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস এর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন,মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন, মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী, মুফতি আব্দুল মালেক, বসুন্ধরার মুফতি আরশাদ রাহমানী, মুফতি রুহুল আমিন, জামিয়া রাহমানিয়ার মুহতামিম মাওলানা মাহফুজুল হক প্রমুখ।

বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ হাইয়া বোর্ড এর সকল সদস্য এবং অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য বোর্ড কর্মকর্তাগণ। এ ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন মাদরাসার মুহতামিমগণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে যে ৪ দফা পরামর্শ দেওয়া হয়:-

১. গত ২৯ মার্চের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বৈঠকে ওলামায়ে কেরামের দেওয়া পরামর্শ মোতাবেক সীমিত সময়ের জন্য, সীমিত পরিসরে সুস্থ মুসল্লিদের প্রবেশে বাঁধা না দেওয়া।

২. জামাতের জন্য সরকার নির্ধারিত ৫/১০ জন এর সংখ্যা সীমা তুলে দেওয়া। বাহ্যিকভাবে সুস্থ মুসল্লিদের সীমিত সময়ের জন্য মসজিদে প্রবেশের অনুমিত প্রদান করা।

৩. জামাত, জুমা ও তারাবীহ এর সময় মসজিদের গেটে তালা না দেওয়া কিংবা মসজিদকে বাঁধামুক্ত করা। ইমাম-খতিব ও মোয়াজ্জিনকে এ সমস্ত বিষয়ে দায়ী করে অপদস্থ না করা, সার্বিক বিষয় বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের গ্রহণ করা।

৪. বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা পরামর্শ মোতাবেক স্বাস্থ্য সচেতনতা মেনে যারা মসজিদে যেতে চায় তাদের বারণ না করা।

এ ব্যপারে মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ বলেন, আসন্ন পবিত্র রমজান রহমত, বরকত ও নাজাতের মাস। এ মাসে মানুষ কাঁদবে, রোনাজারি করবে, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে। এজন্য ওলামায়ে কেরাম জামাত সীমিত রেখেই মসজিদের গেট খুলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। যাতে ওয়াক্তিয়া নামাজ, জুমা এবং আসন্ন তারাবীহ এর সময় সীমিত পরিসরে মসজিদ উন্মুক্ত রাখা যায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীর আহ্বানে জামিয়া মাদানিয়া বারিধারায় করোনা পরিস্থিতিতে জুমা পাঞ্জেগানা এবং রমজান উপলক্ষে তারাবির নামাজ জামাতের সাথে আদায় করার ব্যাপারে উলামায়ে কেরামের আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।


মজলিসে সর্বসম্মতিক্রমে উপরোক্ত সিদ্ধান্তের কাছাকাছি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ৷ তা হলো -

সকল সুস্থ ব্যক্তি সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি ও সুরক্ষা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে জুমা, পাঞ্জেগানা ও তারাবির জামাতে উপস্থিত হতে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে আদিষ্ট৷ তাই আজকের এই মজলিসের সর্বসম্মতিক্রমে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি যে জুমা, পাঞ্জেগানা ও তারাবীর জামাতে মসজিদে সুস্থ মুসল্লিদের উপস্থিতি বাধামুক্ত করে দেয়া হোক!

এ সভায় উপস্থিত ছিলেন আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক, আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মুফতি দেলোয়ার হোসেন, মুফতি আব্দুল মালেক, মুফতি আরশাদ রহমানী, মুফতি মহিউদ্দিন মাসুম, মুফতি মিজানুর রহমান, মুফতি খোরশেদ আলম মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মুফতী হাবীবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী, মুফতি জাকির হোসেন কাসেমী, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা আবু সাবের আব্দুল্লাহ, মাওলানা হামেদ জহিরী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মুফতি মাসউদুল করিম, মাওলানা সানাউল্লাহ মাহমুদী সহ অর্ধশতাধিক উলামায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন।

জাগো প্রহরী/মাসউদ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য