বাসায় কীভাবে জুমআর নামাজ আদায় করবেন ?


মুফতী কবীর আহমদ কাসেমী ৷৷

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘরবাড়ি ও মাঠে-ময়দানে জুমআর নামায পড়া সম্পর্কে ক’দিন আগে দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে দলিলভিত্তিক বিস্তারিত ফতোয়া এসেছে। দুঃখজনকভাবে সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে মসজিদগুলোতে জামাত সীমিত করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সংখ্যার বাইরে অনেক জায়গাতে মুসল্লিরা হয়তো মসজিদে গিয়ে জুমআ আদায় করতে পারবে না। এসব মুসল্লিরা বাসা-বাড়িতে জুমআর নামায পড়বে, নাকি যোহর নামায ?

এ ব্যাপারে সংক্ষেপে কিছু বিষয় তুলে ধরছি:

১. জুমআর নামায ওয়াজিব হওয়ার জন্য কতক শর্ত রয়েছে। আলেমগণ এ সম্পর্কে অবশ্য অবগত আছেন। সাধারণ ভাইদের বুঝাতে গেলে কথা দীর্ঘ হয়ে যাবে। যারা আলেম নন তারা অবশ্যই এ ব্যাপারে বিজ্ঞ আলেমদের শরণাপন্ন হতে হবে। তো যেসব স্থানে শর্তগুলো বিদ্যমান সেখানের মসজিদে তো সীমিত সংখ্যায় জুমআ আদায় হচ্ছেই। নিষেধাজ্ঞার দরুন যারা মসজিদের জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবে না তাদের মাঝে খুতবা প্রদান এবং নামায পড়ানোর জন্য কোনো আলেম থাকলে তারাও ঘরে, উঠুনে, ছাদে জুমআর নামায পড়তে হবে। এ ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও মহিলা ছাড়া ইমামসহ কমপক্ষে চারজন মুসল্লি হওয়া লাগবে। জুমআর পূর্বে বয়ান রাখার বিষয়টি এমনিতেই ঐচ্ছিক। না করলেও চলে। দারুল উলূম দেওবন্দের তিনটি মসজিদে কখনও জুমআর আলোচনা শুনিনি। নির্দিষ্ট টাইমে দ্বিতীয় আযান হতো, এরপর খুতবা, তারপর নামায। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আলোচনা না করাটাই ভালো। একান্ত করতে চাইলে সংক্ষিপ্তভাবে মানুষের ওপর এসব বিপর্যয়ের কারণ, ছোঁয়াচে রোগ সম্পর্কে ইসলামের প্রকৃত আকীদা-বিশ্বাস নিয়ে বয়ান করা যেতে পারে। মহল্লার মসজিদে জুমআর প্রথম আযান হবে। খুতবার পূর্বে শুধু দ্বিতীয় আযান দিলেই চলবে। এরপর সংক্ষেপে খুতবা, তারপর সংক্ষিপ্ত কেরাতে নামায।

২. জুমআ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য খুতবা দেওয়া লাগে। খুতবা প্রদান করে নামায পড়ানোর মতো কাউকে না পাওয়া গেলে অথবা ইমাম ব্যতীত মুসল্লি তিনজনের কম হলে শরীয়তের দৃষ্টিতে তারা মাযুর (অপারগ) সাব্যস্ত হবে। নিষেধাজ্ঞার কারণে মসজিদেও যেহেতু যাওয়া যাচ্ছে না, তাদের জন্য ঘরবাড়িতে জুমআর পরিবর্তে যোহর পড়ে নেওয়া জায়েয। জামাতের সাথে নয়; বরং একাকী পড়বে। কারণ কোনো এলাকায় জুমআর সব শর্ত বিদ্যমানের পর জুমআর জামাত সংঘটিত হলে সে এলাকায় যোহরের নামায জামাতের সাথে পড়া মাকরূহ। সুতরাং মহল্লার মসজিদে যেহেতু জুমআ আদায় হচ্ছে, সেহেতু ওই মহল্লায় যোহরের নামায জামাতের সাথে না পড়ে একাকী পড়বে।

৩. প্রত্যন্ত অঞ্চল: যেগুলো শরীয়তের দৃষ্টিতে শহর বা শহরতলি নয়, জুমআর শর্ত না পাওয়া যাওয়ার কারণে এগুলোতে সাধারণত জুমআও আদায়ও হয় না—এসব অঞ্চলে মসজিদে যেতে না পারলে বাড়িঘরে জামাতের সাথে যোহর নামায আদায় করবে। একাকী পড়ার দরকার নেই।

সংযুক্ত মাসআলা :

১. বাসায় শুধু খুতবার আগের দ্বিতীয় আজান দিবে,তবে দুটো আজান দিলেও সমস্যা নেই ৷

২. মসজিদের মাইকে খুতবা দিলে তা শুনে বাসায় জুমার জামাত করা যাবে না ৷ বরং বাসার পৃথক জামাতের জন্য আলাদা খুতবা লাগবে।

দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া নিচে দেওয়া হলো ৷





জাগো প্রহরী/হেলাল

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

2 মন্তব্যসমূহ

  1. কারো জুমার সংক্ষিপ্ত খুতবা প্রয়োজন হলে আমাকে নক করতে পারেন ৷

    উত্তরমুছুন
  2. মাওলানা সাহেব কোর আন ও হাদিসের আলোকে সমাধান পুন্য লেখা লিখেন তাই ওনাকে অনেক ভালোবাসি

    উত্তরমুছুন