বাড়িতে জুমআর নামাজ : শরীয়ত কী বলে ?



মুফতি শফী কাসেমী ৷৷

 জুমআর নামাজ বেশি সংখ্যক মুসল্লি একত্রিত হয়ে প্রচারণার সাথে জামে মসজিদে আদায় করাই উত্তম ৷

তবে বর্তমান করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে যেহেতু সরকার মসজিদে জুমআর সময়ও দশজন এর অধিক মুসল্লি সমবেত হতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ।

তাই শর্তসাপেক্ষে বাড়িতে জুমার নামাজ আদায় করতে কোন সমস্যা নেই ৷

 জুমআর নামাজ আদায় সহিহ হওয়ার জন্য জামে মসজিদ বা মসজিদ হওয়া শর্ত নয় । জায়গা ওয়াকফকৃত হওয়াও শর্ত নয় ।

অতএব ইমাম ব্যতীত তিনজন মুসল্লী হলে ইযনে আমের সাথে বাড়িতে যদি জুমআর নামাজ আদায় করে নেয় তাতে কোনো অসুবিধা নেই ।

যাদের উপর জুমআ ওয়াজিব তারা জুমআ পরিত্যাগ করা নাজায়েজ । তাই চেষ্টা করবে জুমআর নামাজ পড়ে নেওয়ার । বাড়ির বৈঠক ঘরে, আঙিনায়, অফিস রুমে,মাঠে বা খোলা জায়গায় । যেখানে সম্ভব ।

কোনো কারণে জুমআ পড়তে না পারলে একাকীভাবে জোহরের নামাজ আদায় করে নিবে ‌।

দারুল উলুম দেওবন্দ প্রথমে দালায়েল এর ভিত্তিতেই বাড়িতে বাড়িতে জুমআর নামাজ আদায় করার পরামর্শ দিয়েছিল । কোনো কারণবশত: তারা এ পরামর্শ থেকে সরে এসেছেন ।

পরবর্তীতে মসজিদ ব্যতীত বাড়িতে বাড়িতে জোহর নামাজ আদায় করার পরামর্শ দিয়েছেন ।

আমাদের বুঝতে হবে দারুল উলুম দেওবন্দ ভারতে উগ্রবাদী হিন্দু শাসকদের অধীনে পরিচালিত একটি রাষ্ট্রে অবস্থিত । বিভিন্ন কারণে পরিস্থিতির খাতিরে তাদেরকে বিভিন্ন রকম সিদ্ধান্ত নিতে হয় ।

অতএব অবস্থার ভিন্নতা থাকার কারণে আমাদের ফতওয়া দারুল উলুম দেওবন্দের পরামর্শের সাথে মিলতেই হবে এটা জরুরি নয় ।

অনেকে আবার সরকার কর্তৃক নতুনভাবে দশজনের বেশি মুসল্লি জুমআর নামাজের সময় মসজিদে সমবেত হতে পারবে না বলে যে নিয়ম জারি করেছে , তার কারণে মসজিদগুলোতে জুমআর নামাজ সহিহ হবে কি না সন্দেহ পোষণ করছেন ।

তারা বলছেন এখানে জুমআর নামাজ সহিহ হওয়ার জন্য একটি শর্ত পাওয়া যাচ্ছে না । সেটা হলো ইযনে আম তথা যে কোনো ব্যক্তি নামাজে শরীক হওয়ার অনুমতি।

 এটাও একটি ভুল ধারণা ।

 মসজিদে ইযনে আম অবশ্যই রয়েছে । ইচ্ছে করলেই যে কোনো মুসল্লি আসতে পারে । তবে মুসল্লির নিরাপত্তা ও সুস্থতার জন্য তাকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসতে নিষেধ করা হয়েছে । এটা মুসল্লির স্বার্থে । মসজিদের পক্ষ থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই ।

 অতএব বর্তমান পরিস্থিতিতে মসজিদগুলোতে শুধুমাত্র দশজন মুসল্লি নিয়ে জুমআ আদায় করতে কোনো সমস্যা নেই ।

তবে কোনো কোনো ভাই আবার কোনো মসজিদের জামাআত চলাকালীন টেলিভিশন বা মোবাইলের মাধ্যমে প্রচারিত লাইভ নামাজে ইমামের ইক্তিদা করে বাড়িতেই ওয়াক্তিয়া বা জুমআর নামাজ পড়তে শুরু করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে...

এটা সম্পূর্ণ নাজায়েজ । এ ধরনের ইক্তিদা সহিহ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই ।

 দেখুন : ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/১৪৪, তাতারখানিয়া: ১/৬১৬,তহতাবী আলাদ্দুর...১/২৫২ সহ অসংখ্য কিতাব ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:

ইযনে আম এর শর্ত পাওয়া যাওয়ার জন্য বাড়ির আশপাশের ২/৪ জনকে জানিয়ে দিলেই হবে এখানে জুমআর নামাজ আদায় করা হবে ‌।
লোক দশজনের বেশি হয়ে গেলে বলবেন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে ।

  উপরোল্লেখিত ফতোয়ার তথ্যসূত্র:

* ফতোয়ায়ে শামী (এস এম সাঈদ) ২/১৪৪
* ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/১৪৮
* ফতোয়ায়ে দারুল উলূম ৫/৭৪
* ফতোয়ায়ে দারুল উলূম ৫/১১৭
* আল বাহরুর রায়েক ২/১৪৪
* আদ্দুররুল মুখতার ২/১৫৭
* এমদাদুল আহকাম ১/৭৫১
* ফতোয়ায়ে রহিমিয়া ৫/২৭
* ফতোয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত ৪/৩৭৮

লেখক : মুহাদ্দিস ও মুফতি, বগুড়া জামিল মাদরাসা


জাগো প্রহরী/এইচএইচ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ