অদৃশ্য শক্তির সামনে আজ সব বাহাদুররা অসহায়



সৈয়দ শামছুল হুদা:

বিশ্বায়ন থেকে ডিজিটাল বিশ্ব আজ সর্বত্র স্থবিরতা। দূরে থাকার গল্প। দেশ থেকে দেশ আজ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। সকল প্রকার সামরিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক সম্পর্কে স্থবিরতা নেমে এসেছে। এমন সময় মনে পড়ছে কিছু পরিচিত দৃশ্যের কথা। আবু গারিব কারাগার, গোয়ানতানামো বে আর তোরাবোরা পাহাড়ের দৃশ্য আজও চোখে ভাসে। মনে পড়ে, ইরাকের আয়েশা, ফাতেমা নামক বোনদের পক্ষ থেকে মুসলিম বিশ্বের শাসকদের প্রতি তাদের আত্মসম্মান রক্ষার আকুল আবেদনের কথা। কেউ সাড়া দেয়নি। কেউ এগিয়ে আসেনি। ইরাক সিরিয়া আফগানে কত মা তার ইজ্জত হারিয়েছে, কত বোন তার সম্ভ্রম হারিয়েছে, কত শিশু মহান আল্লাহর কাছে ক্ষুধার যন্ত্রনায় বিচার দিয়েছে। কেউ তাদের ডাক শুনেনি। কিন্তু একজন শুনেছেন, তিনি আমাদের আহকামুল হাকিমীন মহান আল্লাহ।

আল্লাহ তায়ালা জালেমদেরকে সুযোগ করে দেন। তাদেরকে তাদের বিবেকের কাছেই এমনভাবে অপরাধী বানান যখন কোনো বিপর্যয় আসে, তখন আর তাদের কোন জবাব দেওয়ার কিছু থাকে না। মহান রবের কাছে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছাও তাদের মধ্যে তৈরি হয় না। আজকের আমেরিকার ক্ষেত্রে এমনটাই হয়েছে। গত শতাব্দী ধরে আমেরিকা মুসলিম বিশ্বের সাথে হেন কোনো অপরাধ নেই যা করেনি। সামরিক শক্তির দম্ভে দিশেহারা হয়ে তারা ইরাকে, আফগানে মুসলমানদের সম্মানিত, মর্যাদাবান ব্যক্তিবর্গের সাথে এমন সব পশুসুলভ আচরণ করেছে যার ইতিহাস বড়ই নির্মম।

আবু গারিবে মুসলমানদের সাথে আমেরিকান সেনারা কত নিষ্ঠুর আচরণটাই না করেছে। ইরাকের সম্মানিত মা, বোন, ভাই, বাবাদের সাথে এমন সব আচরণ করেছে যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। আমেরিকান নারী সেনারা পুরুষদের উলঙ্গ করে কুকুরদিয়ে শাসিয়েছে। পুরুষ সেনারা ইরাকের মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে হায়েনার মতো আচরণ করেছে। গোয়ানতানামো বে ছিল এক প্রকাশ্য নরক। পশুকেও মানুষ এতটা কষ্ট দেয় না, যতটা কষ্ট আফগানের মুজাহিদদেরকে দিয়েছে। আফগানের অনেক নিরীহ মানুষের সাথে, অনেক আলেম-উলামা, জ্ঞানী-গুণীদের সাথে অসভ্যের মতো আচরণ করেছে। পবিত্র কুরআন নিয়ে ওরা তামাশা করেছে। আফগানিদের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে ওরা উপহাস করেছে।

পাকিস্তানে নিয়োজিত আফগান রাষ্ট্রদূত আব্দুস সালাম জাঈফদের তৎকালীন পাকিস্তানী শাসক, বারাক ওবামা প্রশাসন কত জুলুমইতো করেছে। পাকিস্তান থেকে আফগান মুজাহিদদের হাত-পা বেধে ১৮-২০ঘন্টা বিমানে কালো কাপড়ে মুখ ঢেকে প্রস্রাব-পায়খানা আটকিয়ে, খাবার না দিয়ে কত যে বর্বরতার নজির সৃষ্টি করেছে তা আজ বাবরার চোখের সামনে ভেসে উঠিছে। আর মনে পড়ছে, আহকামুল হাকিমীন একজন আছেন। আজ আব্দুস সালাম জাঈফরা মুক্ত। স্বাধীন। নির্ভয়। আর ওরা! ওরা জীবনের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। অল্প কিছুদিন এভাবে চললে ওদেরকে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বিশ্বময় দৌঁড়াতে হবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শিক্ষা থেকে জাপান একেবারে নিশ্চুপ হয়ে গিয়েছিল। তারা বিগত ৭০টি বছর কোনো দেশে কোনো প্রকার জুলুম-নির্যাতন করেনি। বরং উন্নতি ও উৎকর্ষতার চরমসীমায় পৌঁছেও তারা বিনয়ী হযেছে। অঘোষিত এই করোনা যুদ্ধের পর অনেক দেশই এমন সুবোধ বালকের মতো হয়ে যাবে। হয়ে যাবে নিঃস্ব, সোজা।

সিরিয়ার শিশুরা, ইরাকের বোনেরা, আফগানের মায়েরা মহান রবের কাছে বিচার দিয়েছিলেন। মহান রব তাদের ডাক শুনেছেন। আজ কোথায় সেই মহাশক্তিশালীরা? আজ তাদের কোথায় সেই দম্ভ? অদৃশ্য একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জিনিসের কাছে সকল সমরাস্ত্র আজ অসহায়। সকল প্রস্তুতি আজ শেষ। মানুষ কেন এত বড়াই করে? মানুষ কেন? কিসের এত অহঙ্কার করে? কেন মানুষ মানুষের ওপরে হায়েনার মতো ঝাপিয়ে পড়ে এটা বুঝে আসে না। মানবতার ফেরিওয়ালারা এতদিন সবদেখেও মুখ বুজেছিল। তারা অন্যায়ের কোন প্রতিবাদ করে নাই। বিশ্বের সকল বুদ্ধিজীবিরা রাষ্ট্রপ্রধানদের সুপথে আনতে পরামর্শ দেয় নাই।

আজ বিশ্বব্যাপী চলছে নীরব তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। অদৃশ্য শক্তির সামনে আজ সব বাহাদুররা অসহায়। আল্লাহ এভাবেই জালেমদের পাকড়াও করেন। সকল অপরাধীদের অন্তরে ভয় ঢুকিয়ে দেন। তবে ভাগ্যবানরাই এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। আর কপালপোড়ারা এ থেকেও কিছু শিখতে পারবে না। তারা আবারও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিবে অশ্লীলতা, অপরাধ, খুন-খারাপিসহ সকল অপকর্ম। আল্লাহ আমাদের বুঝার তাওফিক দান করুন। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা গ্রহণের তাওফিক দান করুন। আমিন।

সেক্রেটারি জেনারেল,
বাংলাদেশ ইন্টেলেকচুয়াল মুভমেন্ট (বিআইএম)

জাগো প্রহরী/মাসউদ আইয়ুবী

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য