তারাবীর নামায নিয়ে ইতরামী বন্ধ করুন!


মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া ৷৷

তারাবীর নামায নিয়ে বিজয় টিভি যে ইতরামী শুরু করেছে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তারাবীর নামাযের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নিয়ে বিজয় টিভি এমন তামাশা, ইতরামী করার দুঃসাহস পায় কোত্থেকে? 

টিভিতে একজন ক্যামেরার সম্মুখে দাঁড়িয়ে নামায প্রদর্শন করবে আর অন্যরা নিজ নিজ অবস্থানে থেকে টিভির প্রদর্শিত কথিত নামাযির ইমামতিতে তারাবীর নামায আদায় করবে, তা কোনো অবস্থাতেই শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়। যা শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয় তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য। 

জামায়াতবদ্ধ যে কোনো নামাযে ইমাম স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে। ইমামের অবস্থান মুসল্লিদের সম্মুখে হতে হবে। মুসল্লিরাও ইমামের পশ্চাতে দাঁড়াবে। এটাই জামায়াতবদ্ধ নামাযের নিয়ম। এর ব্যতিক্রমে নামায‌ই হবে না।

বিজয়ী টিভি নামাযের বিশুদ্ধ হওয়ার এ বিধানকে লঙ্ঘন করেছে। ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে তারাবী আদায় করতে বলছে তা কোনো অবস্থাতেই নামায নয়; বরং নামায নিয়ে ইতরামী, বান্দরামী ছাড়া কিছুই নয়। এ বান্দরামী অনতিবিলম্বে বন্ধ না করলে উদ্ভূত যে কোনো পরিস্থিতির দায়ভার বিজয় টিভিকেই নিতে হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গোচরে কি বিজয় টিভির তারাবীর নামায নিয়ে ইতরামীর বিষয়টি আসেনি? ইফা যদি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির আশংকায় মসজিদে নামায আদায় বিষয়ে তৎপর হতে পারে- তাহলে এবিষয়ে কেনো নীরব? এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বও বটে।

ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয়ে তৎপর হতে দেখা যায়। যে প্রতিষ্ঠান নামায নিয়ে ইতরামী করবে তার বিরুদ্ধেও তিনি কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করবেন এটাই ধর্মপ্রাণ মুসলমান আশা করে। ধর্মপ্রতিমন্ত্রী হিসেবে এটিও তার দায়িত্বের আওতাভুক্ত।

যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান রইল, তারা যেন অনতিবিলম্বে বিজয় টিভির এই তামাশা বন্ধ করে। অন্যথায় লকডাউন ভেঙে মানুষ আন্দোলন করলে এবং এর মাধ্যমে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে তার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।

লেখক : 
সহসভাপতি,বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া এবং
মুহতামিম,জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদ মাদরাসা,মিরপুর,ঢাকা ৷

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য