পবিত্র মাহে রমযানে সকল গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকুন : পীর সাহেব চরমোনাই


জাগো প্রহরী : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই পবিত্র মাহে রমযান উপলক্ষে দেশবাসীর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়েছেন।

শুক্রবার ( ২৪ এপ্রিল ) এক শুভেচ্ছা বাণীতে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, এ বছর এমন সময় পবিত্র মাহে রমযান সমাগত, যখন পুরো বিশ্বের মানুষ করোনা নামক মহামারিতে বিপর্যস্ত। তারমাঝেও রমযানের গুরুত্ব মানব জীবনে অপরিসীম।

তিনি বলেন, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের পয়গাম নিয়ে মাহে রমযান সমাগত। রমযান মাস আত্মশুদ্ধি অর্জনের মাস। সহানুভূতির মাস। এ মাসের যথাযথ মর্যাদা রক্ষার জন্য সর্বস্তরের মুসলমানকে এগিয়ে আসতে হবে। রমযানের পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সরকারকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য নাগালের ভিতরে রাখতে হবে। গরীব, অসহায় ও মেহনতি মানুষ যেন অর্ধাহারে ও অনাহারে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। শ্রমিকের পুরাপুরি মজুরি প্রদান করা সকলের কর্তব্য। পবিত্র রমযান উপলক্ষে সকলকে মারামারি, হিংসা-বিদ্বেষ, পরনিন্দা ও চোগলখোরী ছেড়ে দিয়ে আত্ম সংযম অর্জন করতে হবে।

তিনি বলেন, এ মাসে আল্লাহ্ তা’য়ালা পবিত্র গ্রন্থ আল-কুরআন নাজিল করে মানুষকে পথ প্রদর্শন করেছেন। রমযান মাসে আত্মশুদ্ধি অর্জন করে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সকলকে কাজ করতে হবে এবং সকল প্রকার ফেৎনা-ফ্যাসাদ ছেড়ে দিয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সত্যিকার আল্লাহর ভয় অর্জন করার চেষ্টা করতে হবে। পীর সাহেব চরমোনাই রমযানের পবিত্রতা রক্ষা এবং সকল প্রকার গর্হিত কাজ হতে বিরত থাকার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি মজুতদারী, মুনাফাখোরী, কালোবাজারী ব্যবসায়ীরা যাতে করতে না পারে সেজন্য সরকারকে সর্তক থাকার আহ্বান জানান।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, টেলিভিশন ও সিনেমায় সকল প্রকার অশ্লীল ছবি প্রদর্শন বন্ধ রাখতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে আহবান জানান। তিনি বলেন, আত্মশুদ্ধি, সাম্য, সহমর্মিতা ও মানবীয় গুণাবলী সুষ্টির উদাত্ত আহবান নিয়েই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র রমযান আমাদের দ্বারপ্রান্তে সমাগত। মুসলিম জাতীয় ঐতিহ্য চেতনায় এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে রমযান অতি গুরুত্বপূর্ণ। রমযান মাস পবিত্র কুরআন নাজিলের মাস, ইসলাম প্রতিষ্ঠার মাস, বিজয়ের মাস। মুসলমানের দ্বীন ও দুনিয়ার সমৃদ্ধি, পার্থিব ও আধ্যাত্মিক উন্নতি, দৈহিক ও মানবিক শ্রেষ্ঠত্ব আর  গৌরব ও মর্যাদার অবিস্মরণীয় স্মৃতি বয়ে নিয়ে আসে মাহে রমযান। উন্নত চরিত্র অজর্নের পক্ষে অন্তরায় পাশবিক বাসনার প্রাবল্যকে পরাভূত করতঃ পাশবিক শক্তিকে আয়ত্তাধীন করা হচ্ছে সিয়ামের তাৎপর্য। ব্যক্তিগত এবং সামাজিকভাবে সর্বত্র আল্লাহর দ্বীনের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠায় যাবতীয় প্রতিকূলতার মুখে টিকে থাকার জন্যে যে মানসিকতার প্রয়োজন, সিয়ামের সাধনার মধ্যেই তা অর্জিত হয়। পীর সাহেব চরমোনাই রমজানের পবিত্রতা বজায় রাখার জন্যে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান এবং বলেন যে, আল্লাহ পাক বিশ্ব মুসলিমকে মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব উপলব্ধি করার তৌফিক দান করুন।

জাগো প্রহরী/ফাইয়াজ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য