সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে না পারার দায়ভার সরকারের: জুনায়েদ সাকি


জাগো প্রহরী : বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের যেই পরামর্শটি অধিক গুরুত্বের সাথে সমগ্র দুনিয়া মেনে নিচ্ছে সেটি হলো সামাজিক দূরত্ব। কিন্তু করোনায় আমরা বরাবরই উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছি। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা, খাদ্য- বকেয়া বেতনের জন্য রাজপথে বিক্ষোভ, চাউলের জন্য দীর্ঘ লাইন এগুলো আমাদের উদাসীনতার পাবলিসিটি করছে। জনগণের এই চরম উদাসীনতার দায়ভার সরকার এড়াতে পারেনা বলে মন্তব্য করেছেন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি। তিনি ব্যক্তিগত ফেইজবুকে লিখেছেন…..

জুনায়েদ সাকী: এই করোনা সংক্রমনের কালেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধর্মীয় নেতার জানাজায় বড় জমায়েত, গার্মেন্টস শ্রমিকদের বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ, শ্রমজীবী মানুষের খাদ্যের দাবিতে সমাবেশ কিংবা ওএমএসের চালের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো এসব কিছুর জন্য প্রধানত দায়ী সরকার। ফোকাস হারিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। রাষ্ট্র ও সরকারের দায় এড়ানোর সুযোগ করে দিয়েন না।

করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ভয়ের চাইতে পেটের ক্ষুধা যখন বড় হয়, করোনায় আক্রান্ত হলে চিকিৎসা পাওয়ার যখন কোনো নিশ্চয়তা না থাকে, এমনকি চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মীদেরও ন্যূনতম কোন সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকে তখন শ্রমিক-শ্রমজীবীরা রাস্তায় নামবেন, মানুষ আপন আপন ধর্মবিশ্বাসকে বাঁচার প্রধান অবলম্বন করে তুলবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই বাস্তবতার বদল কি সম্ভব ছিল না? এই বদলানোর দায়িত্ব কি প্রধানত সরকারের ছিল না?

বৈশ্বিক মহামারীতে আমরা একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে আছি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং লকডাউন এর মত এক অচেনা বাস্তবতায় আমাদের ঢুকতে হয়েছে। লকডাউন কার্যকর করার জন্য যদি সময়মত শ্রমিকদের বেতন নিশ্চিত করে ছুটি দেয়া হতো, শ্রমজীবী, কৃষক-খেতমজুর ও দিনের আয়ের ওপর নির্ভরশীলদের ঘরে ঘরে খাদ্য ও অর্থ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হতো, যদি চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয় বন্দোবস্ত করা হতো, যদি ধর্মীয় আলেম-ওলামাদের সাথে সরকার আগেই এই বিশেষ পরিস্থিতির গুরুত্ব নিয়ে বৈঠক করত, তাদের মাধ্যমেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ধর্মীয় রীতি পালনের নির্দেশনা সমাজে পৌঁছে দিত তাহলে পরিস্থিতি আজ যে জায়গায় দাঁড়িয়েছে সে জায়গায় আসতো না।

এমনকি ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও় ধর্মীয় নেতার জানাজা কী আকারে হবে সে নিয়ে আলাপ-আলোচনার জন্য পুরো একদিন সময় তারা পেয়েছিল। ফলে যা হয়েছে তা সরকারের প্রচ্ছন্ন অনুমতিতেই হয়েছে সেটা সহজে অনুমেয়।

নাগরিকদের দায়িত্বশীলতা যদি নিজ নিজ বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে প্রত্যেকেই আপন আপন জ্ঞান, বিশ্বাস ও জীবন চর্চার আলোকেই সেই দায়িত্ব পালন করবেন। সে ক্ষেত্রে একের বিচারে অন্যের আচরণ ঠিক মনে না হওয়াই স্বাভাবিক। সমাজে বহু মত চিন্তা ও জ্ঞানের চর্চা বহমান, জীবন চর্চাও সে অনুযায়ী আলাদা। এইখানেই রাষ্ট্র ও সরকারের গুরুত্ব ও দায়িত্ব। সমাজের বৃহত্তর স্বার্থকে সকলের কাছে বোধগম্য গড়ে তোলা, প্রত্যেকের জরুরী চাহিদাগুলো নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সরকারের প্রধান কাজ। সেই কাজে বর্তমান সরকার ও রাষ্ট্রব্যবস্থা যে ক্রমাগত ব্যর্থ হচ্ছে, তাদের দায়িত্বহীনতা ও অপরাজনীতি যে আমাদেরকে সমূহ বিপদের মধ্যে ফেলছে সেই দিকটিই আমাদের প্রধান মনোযোগে থাকা দরকার৷

জাগো প্রহরী/টিআর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য