উত্তরায় নারী অধিকার আন্দোলনের নেত্রী কমরেড এ্যানির বিরুদ্ধে গৃৃৃহপরিচারিকাকে নির্যাতনের অভিযোগ


জাগো প্রহরী : রাজধানীর উত্তরায় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেত্রী, বুয়েটিয়ান ইঞ্জিনিয়ার, শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চ-এর বিশিষ্ট নেত্রী, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে অন্যতম সোচ্চারকণ্ঠ, কখনো শাহবাগের রাজপথে, কখনো টেলিভিশনের টকশোতে নারী অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে জ্বালাময়ী বক্তৃতাদানকারী, নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম মুখ কমরেড সাঈদা সুলতানা এ্যানির বিরুদ্ধে তার এক গৃহপরিচারিকাকে জিনিস নষ্টের অপবাদ ও জখম-নির্যাতন করে বাসা থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গৃহপরিচারিকা পাপিয়া আক্তার মিম শিক্ষিতা। একটা ছোটখাটো চাকরি করতেন। করোনার কারণে লকডাউনে চাকরিটাও হারিয়েছেন। নিতান্তই পেটের দায়ে তিনি কাজ করতে গেছিলেন এই বিশিষ্ট নারীনেত্রী কমরেড এ্যানির বাসায়। কাজ ছিলো একটা প্রতিবন্ধী বাচ্চাকে দেখাশোনা করা।

 নির্যাতনের শিকার হওয়া পাপিয়া আক্তার মীম গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ) নিজ ফেসবুক পোস্টে ( আইডি নাম অপয়া অপ্সরী ) ওই অমানবিক ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন ওই তরুণী। এমনকি ফেসবুক পোস্টের এক ভিডিওতে দেখা যায় এক নারী অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও চড়াও হচ্ছেন ওই গৃহপরিচারিকার উপর। বার বার অনুরোধ করা সত্বেও অকথ্য ভাষা ব্যবহার ও চড়াও হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায় ভিডিওটিতে।

বিষয়টা সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্যাতনের শিকার হওয়া ওই তরুণী গণমাধ্যমকে জানায়, উত্তরা ৩নং সেক্টরের ৭ নং রোডের ৩৩ নাম্বার বাসার ৬ষ্ঠ তলায় কাজ করতাম। অপর এক গৃহকর্মী কাজ করার সময় ফ্রিজে দাগ ফেলে দেয়। এতে বাসার মালিক (মহিলা) আমার উপর অপবাদ ফেলে এবং আমাকে ব্যাপক, মারধর করলে এক পর্যায়ে আমি প্রাণভয়ে বাড়ি থেকে বের হতে চাইলে তিনি আমাকে গেট লাগিয়ে মারধর করেন। পরে, অনেক কষ্ট করে কোনরকম সেখান থেকে বের হয়ে আমি পুলিশের শরণাপন্ন হই।

 ফেসবুক পোস্টটি পাঠকদের উদ্দেশ্যে নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো-




এই করোনার মহামারিতে মানুষ এমন হিংস্র কিভাবে হতে পারে,সবাইকে আমার এই ভিডিও টা দেখার জন্য অনুরোধ করছি 🙏 আজ গরীব হয়ে জন্ম নিয়েছি বলে,বড় লোকদের হাতে মার খেয়ে চুপ থাকতে হচ্ছে, কারন পুলিশ শুধু বড়লোকদের,আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে ছোট একটা জবে ঢুকেছিলাম,এর মধ্যে করোনার জন্য চাকরি শেষ পর্যন্ত করতে পারি নাই,ভাবলাম বসে থেকে কি হবে,এক পরিচিত ভাই ভাইয়ের মাধ্যমে এক বড়লোকের বাড়িতে একটা প্রতিবন্ধী মেয়ে দেখাশোনা করার জন্য কাল যাই,
সামান্য একটা ভুলের কারনে, যেই ভুলটা আমি করি নাই, ফ্রিজ পরিস্কার করা নিয়ে একটু দাগ হওয়ার কারনে, কাল থেকে আজ সকাল পযন্ত আমাকে আটকে রেখে এমন নির্যাতন করে, আমি বার বার বলছি ম্যাম আমাকে যেতে দেন,উনি পরে আমার একটা ভিডিও ধারন করে,যেখানে আমাকে জোরপূর্বক বলতে বলে যে আমি উনার বাসা থেকে
ইচ্ছাকৃত চলে যাচ্ছি, আমি মারের ভয়ে বলতে বাধ্য হয়েছি,তার পর আমি থানায় যাই কিন্তু কোন কাজ হয়নি,পুলিশ আমার সাথে আসছে ঠিক কিন্তু, উনার সাথে ফোন কথা বলে,আমাকে বলছে আপনি বাসাই যান, আমরা দেখছি বেপারটা,যানি আমি এটার আর কিছু হবে না,তাই আপনাদের সাথে কথাটা শেয়ার করলাম,মানুষ কোন সময় এমন সিদ্ধান্ত নেয় কারো বাসায় কাজ করার সেটা অবশ্যই বুঝতে পারছেন,আশা করি এটা নিয়ে কেউ কমেন্ট করবেন না,পরিস্থিতি মানুষকে অসহায় করে ফেলে, যখন মা বাবা মুখের দিকে তাকাই তখন আর কোন কিছু মাথাই আসে না,

বাসার মালিক কথিত নারী অধিকার আন্দোলন ও বাম নেত্রীর এমন অত্যাচারের ভিডিওটা প্রকাশ হওয়ার পর পর একহাজারেরও বেশি শেয়ার হয়েছে এবং অনেকে মতামতে নিন্দা জানিয়েছেন। ফেসবুক পোস্টে নির্যাতনের তিনটা ভিডিও রয়েছে ৷এহেন পরিস্থিতিতে মানবাধিকারকর্মীদের সহযোগিতা চেয়েছেন নির্যাতনের শিকার হওয়া ওই তরুণী।

জাগো প্রহরী/ফাইয়াজ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য