মসজিদে জামাত বিষয়ে ১৫ আলেমের বিবৃতিকে সমর্থন জানালেন আরও ৭০ আলেম


জাগো প্রহরী : করোনা ভাইরাস এর এই মহামারী সময় মসজিদে জামাত সীমিত করার সরকারী নির্দেশনা সঠিক নয় দাবি করে দেওয়া দেশের শীর্ষ ১৫ আলেমের বিবৃতিকে সমর্থন জানিয়েছেন আরও প্রায় ৭০ জন আলেম। শীর্ষ এই আলেমরা পূনরায় আহ্বান করে বলেছেন, মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা নির্ধারণ না করে মসজিদসমূহ উন্মুক্ত করে দিন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের অফিসিয়াল পেডে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী স্বাক্ষরিত এক অফিশিয়াল বিবৃতি পাঠানো হয়েছে গণমাধ্যমগুলোর অফিশিয়াল মেইলে।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত ৮ এপ্রিল গণমাধ্যমে দেয়া বাংলাদেশের শীর্ষ ১৫ জন আলেমের আল্লাহর ঘর মসজিদ উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে আজ দেশের ৭০ উর্ধ্ব বিশিষ্ট আলেম ও মুফতীগণ গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন। তারা গত ৮ এপ্রিল প্রকাশিত নিম্নোক্ত বিবৃতির সাথে একমত পোষণ করেন।

‘সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ প্রশংসনীয়। তবে মসজিদে মুসল্লীদের সংখ্যা নির্ধারণের কারণে বিভিন্ন স্থানে মসজিদে তালা লাগানো, ইমাম-মুআজ্জিন, মুসল্লিদের হয়রানি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ওলামায়ে কেরাম বলেন, কাঁচা বাজারগুলোতে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত জনসমাগমের বৈধতা থাকলে আল্লাহর ফরজ বিধান জুমা ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের জন্য অজু ও পবিত্রতার সাথে স্বল্প সময়ে সাধারণ মুসল্লিদের মসজিদে উপস্থিতির ব্যাপারে কঠোরতা আরোপ ও সংখ্যা নির্ধারণ যুক্তিসঙ্গত নয়।

ওলামায়ে কেরাম আরো বলেন, আল্লাহর বিশেষ রহমত অর্জন এবং আল্লাহর গজব করোনা মহামারী থেকে মুক্তি লাভের জন্য সংখ্যার শর্ত তুলে দিয়ে সীমিত সময়ে মসজিদে জামাতে নামাজ পড়ার সুযোগ দেয়ার জন্য সরকারের নিকট দাবি জানাচ্ছি। এ মহৎ উদ্যোগ আল্লাহর রহমতকে তরান্বিত করবে এবং দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে ইনশাআল্লাহ। করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে খালেস দিলে তাওবা-এস্তেগফার, নামাজ-রোজা, দোয়ায়ে ইউনুস সহ অন্যান্য দোয়া অব্যাহত রেখে সবধরনের পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলার জন্য তাঁরা সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বিবৃতির প্রতি সমর্থনকারী বিশিষ্ট আলেমগণ হলেন- শায়খুল হাদিস আল্লামা নুরুল ইসলাম (আদীব সাহেব হুজুর), মহাপরিচালক ওলামা বাজার মাদরাসা ফেনী। শায়খুল হাদিস মুফতি আব্দুল বারী, প্রিন্সিপাল, জামিয়া আশরাফিয়া সাইনবোর্ড, ঢাকা। শায়খুল হাদিস আল্লামা আব্দুল হক, খতিব ময়মনসিংহ বড় মসজিদ। মাওলানা আব্দুল হামিদ, পীর সাহেব মধুপুর। মাওলানা নুরুল ইসলাম শায়খুল হাদিস ও প্রিন্সিপাল, মাখজানুল উলূম খিলগাঁও, ঢাকা। অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, পীর সাহেব কাপাসিয়া, গাজিপুর। মাওলানা আব্দুর রহমান, শায়খুল হাদিস উজানী মাদরাসা চাঁদপুর। মুফতি ইয়াহইয়া, প্রধান মুফতি লালবাগ মাদরাসা, ঢাকা।

মাওলানা হাজী ফারুক আহমাদ, শায়খুল হাদিস ইশাআতুল উলূম লক্ষীপুর। মাওলানা মুফতি কুতুবুদ্দিন, শায়খুল হাদিস নানুপুর মাদরাসা চট্রগ্রাম। মাওলানা যাকারিয়া নোমান, মেখল মাদরাসা চট্টগ্রাম। মাওলাান আবুল কালাম প্রিন্সিপাল, জামিয়া মুহাম্মদিয়া, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। শায়খুল হাদিস মাওলাানা আব্দুল আউয়াল, খতিব, ডি আই টি মসজিদ, নারায়নগঞ্জ। মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, প্রিন্সিপাল দেওভোগ মাদরাসা, নারায়ানগঞ্জ। শায়খুল হাদিস মুফতি মহিবুল হক, মুহতামিম, দরগাহ মাদরাসা সিলেট। মাওলানা শিব্বির আহমাদ, চরমটুয়া, নোয়াখালী। মুফতি মুশতাকুন্নবী কাসেমী, মুহতামিম, দারুল ঊলূম সুধন্যপুর, কুমিল্লা। মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান, পেশ ইমাম, চকবাজার শাহী মসজিদ ঢাকা।

মাওলানা মাসুদুল করিম, প্রিন্সিপাল দারুল উলুম টঙ্গী। মুফতি কেফায়েতুল্লাহ আজহারী, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস, জামিয়াতুল মানহাল, উত্তরা, ঢাকা। মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী, সম্পাদক মাসিক আদর্শ নারী। মুফতি গোলাম রব্বানী, নিলফামারী। মুফতি নুরুল ইসলাম খান, শায়খুল হাদিস ও প্রিন্সিপাল দরগাপুর মাদরাসা, সুনামগঞ্জ। মুফতি ইফতেখারুল ইসলাম, মুহাদ্দিস, তেঘরিয়া মাদরাসা সুনামগঞ্জ। শায়খুল হাদিস মুফতি আবুল হাসান, রংপুর। মুফতি বশিরুল্লাহ মাদানীনগর মাদরাসা। মাওলানা আনোয়ারুল করীম, মুহতামিম, রেল স্টেশন মাদরাসা যশোর। মুফতি রফিকুর রহমান খুলনা। মুফতি গোলামুর রহমান প্রিন্সিপাল ইমদাদুল উলুম খুলনা। মাওলানা আব্দুল হামিদ, সভাপতি বৃহত্তর কুষ্টিয়া ওলামা পরিষদ। মাওলানা আকরাম আলী, বাহিরদিয়া মাদরাসা, ফরিদপুর। মাওলানা ইসমাঈল ইবরাহীম, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীস, ভবানীপুর মাদরাসা, গোপালগঞ্জ। মুফতি মুনির হুসাইন, প্রিন্সিপাল রাণীরবাজার মাদরাসা কুমিল্লা। মাওলানা আব্দুল বাসেত আজাদ (বড় হুজুর বানিয়াচং) হবিগঞ্জ।

মুফতি লিহাজ উদ্দিন, মুহতামিম জামিয়া নূরিয়া, গাজিপুর। মাওলাান ইউসুফ সাদেক হক্কানী, সভাপতি, সাভার উপজেলা ওলামা পরিষদ। মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, প্রিন্সিপাল জামিয়া মাআরিফুল কোরআন ঢাকা। মুফতি শেখ মজিবুর রহমান, শায়খুল হাদিস জামিয়া আশরাফিয়া পটুয়াখালী। মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, প্রিন্সিপাল দারুল উলুম নতুনবাগ রামপুরা ঢাকা। মুফতি সাঈদুর রহমান, মুহতামিম আল কাউসার আল ইসলামিয়া, কল্যাণপুর ঢাকা। মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া, মহাসচিব ইত্তিফাকুল মুসলিমীন বাংলাদেশ। মুফতি সাইফুল ইসলাম, প্রিন্সিপাল মোস্তফাগঞ্জ মাদরাসা মুন্সিগঞ্জ। শায়খুল হাদিস মুফতি হাসান ফারুক মুহতামিম জামিয়া ফারুকিয়া, গজারিয়া মুন্সিগঞ্জ। মাওলানা বশিরুদ্দিন, শায়খুল হাদিস দত্তপাড়া মাদরাসা নরসিংদী। মাওলানা আব্দুল হালিম, মুহতামিম খাজা মঈনুদ্দিন মাদরাসা, বরিশাল।

মাওলানা আলী আহমাদ পীরসাহেব চন্ডিবর্দী, মাদারীপুর। মুফতি শফিউল্লাহ খান, সভাপতি, শরীয়তপুর উলামা পরিষদ, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস, মনুয়া মাদরাসা, শরীয়তপুর, মুফতি রশিদ আহমদ, প্রধান মুফতি বৌয়াকুর মাদরাসা, নরসিংদী। মুফতি রঈসুল ইসলাম, প্রধান মুফতি জামিয়া ফয়জুর রহমান, ময়মনসিংহ, মাওলানা আব্দুর রহমান খান তালুকদার, সভাপতি, সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ ভোলা, মাওলানা আবুল কাসেম, প্রিন্সিপাল, জামিয়া মিফতাহুল উলুম নেত্রকোনা, মাওলানা আব্দুল মতিন, সহকারী প্রিন্সিপাল নেত্রকোনা কামিল মাদরাসা, মুফতি আব্দুল বারী, নেত্রকোনা, মুফতি আবু দাউদ, প্রিন্সিপাল মঙ্গলবাড়ীয়া মাদরাসা কুষ্টিয়া। মুফতি মাসউদুর রহমান, প্রধান মুফতি ভবানীপুর মাদরাসাম গোপালগঞ্জ। মাওলানা আব্দুর রাশেদ ফরিদপুর। মাওলানা আব্দুল মতিন, খলিফা হাফেজ্জী হুজুর রহ.। মুফতি শিহাবুদ্দিন কাসেমী, কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ। মুফতি আরিফ বিল্লাহ, সভাপতি ঝিনাইদহ ওলামা পরিষদ।

মাওলানা শফিউল্লাহ, মুহতামিম জামিয়া ইসলামিয়া চৌমুহনী নোয়াখালী। মুফতি আব্দুস সালাম, মুহাদ্দিস ধুলেরচর মাদরাসা টাঙ্গাইল। মাওলানা গাজী ইউসুফ, ফেনী। মাওলানা আব্দুল হাই উত্তরা, ঢাকা। মাওলানা আব্দুল হক, কক্সবাজার, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, রামু, কক্সবাজার, মাওলানা আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী, টেকনাফ কক্সবাজার। মাওলানা আব্দুল হক কাউসারী পটুয়াখালী। মুফতি আজমল হুসাইন, সভাপতি, ইত্তেহাদুল উলামা, রাজশাহী। মুফতি আব্দুল্লাহ শায়খুল হাদীস ও প্রধান মুফতি, জামিয়া ইশাআতুল উলূম, নেত্রকোনা। মাওলানা ইসমাঈল মাহমূদ, শিক্ষাসচিব, রেলওয়ে মাদরাসা, সিরাজগঞ্জ। মাওলানা শরীফুল ইসলাম, মুহতামিম, নিউটাউন মাদরাসা, দিনাজপুর, মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী দিনাজপুর। মাওলানা আরিফুল ইসলাম, সভাপতি, ইশাআতে ইসলাম, দিনাজপুর। সহ আরো অনেক ওলামা ও মুফতিয়ানে ইজাম।


উল্লেখ্য গত ৮ এপ্রিল “মসজিদ উম্মুক্ত করে দিন” শিরোনামে নিম্নোক্ত শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছিলেন, দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর প্রধান মুফতি আল্লামা আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়ত মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, শায়খুল হাদিস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী চট্রগ্রাম, বারিধারা মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি সাবেক মন্ত্রী মুফতি মোঃ ওয়াক্কাস, চট্রগ্রাম বাবুনগর মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, জামিয়া ইউনুসিয়া ব্রাক্ষণবাড়িয়ার প্রিন্সিপাল আল্লামা মুফতি মুবারকুল্লাহ, মারকাজুল উলুম খুলনার প্রিন্সিপাল মুফতি গোলাম রহমান, শায়খুল হাদিস আল্লামা সোলায়মান নোমানী, শায়খুল হাদিস আল্লামা ইসমাঈল বরিশালী, শায়খুল হাদিস আল্লামা শেখ আজীমুদ্দীন, জামিয়া নুরিয়ার প্রধান মুফতি আল্লামা মুজিবুর রহমান, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা শাইখ নাসিরুদ্দিন, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীস, বুরহানুদ্দীন মাদরাসা সিলেট ও মুফতি ওমর ফারুক বিন মুফতি নুরুল্লাহ, বরিশাল।

ওলামায়ে কেরাম আরও বলেন, যেহেতু সংখ্যা নির্ধারণ ছাড়া হাট-বাজার, ব্যাংক ইত্যাদি খোলা আছে, তাই মহামারী থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ও আল্লাহর রহমতের আশায় শর্তহীনভাবে মসজিদ উন্মুক্ত রাখাই যুক্তিযুক্ত ও ঈমানের দাবী। আশাকরি, শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও মুসলিম জনতার এ প্রাণের ও ঈমানের দাবির প্রতি সরকার শ্রদ্ধাশীল হবেন।

জাগো প্রহরী/গালিব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য