করোনা সংক্রমণ রোধে ১১ দফা প্রস্তাব দিয়েছে ‘জনআকাঙ্খার বাংলাদেশ’


জাগো প্রহরী ডেস্ক :

করোনা সংক্রমণ রোধে ১১ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছে ‘জনআকাঙ্খার বাংলাদেশ’। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে বিজয়নগরের দলীয় কার্যালয়ে এক অনলাইন সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলটির সমন্বয়ক মজিবুর রহমান মঞ্জু এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে মজিবুর রহমান বলেন, মহাদুর্যোগ ও ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ গভীর সংকট ও এক অনিশ্চিত জীবনের মুখোমুখি। সম্মিলিতভাবে আমাদের নিজস্ব মেধা ও সামর্থ দিয়ে এ সঙ্কটের মোকাবেলা করতে হবে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা সেবা ও ত্রাণ বিতরণ করতে হবে।

তিনি করোনা প্রতিরোধে দলের পক্ষ থেকে ১১টি প্রস্তাব তুলে ধরেন।

১. জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সর্বদলীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা। সর্বদলীয় বলতে শুধুমাত্র রাজনৈতিক দল নয় বরং বিভিন্ন শ্রেণির পেশাজীবি ও ধর্মীয় নেতৃত্বকে যুক্ত করে কমিটি গঠন করা।

২. পর্যাপ্ত কিটের ব্যবস্থা করে ব্যাপকহারে করোনা টেস্টের উদ্যোগ নেয়া এবং মানুষের মাঝে আস্থা ও নিরাপত্তার পরিবেশ তৈরি করা।

৩. অবিলম্বে জেলায় জেলায় সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ফিল্ড হাসপাতাল করে কোভিড-১৯ এর চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করা। ত্রাণ তৎপরতার দায়িত্ব রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনায় না দিয়ে সেনাবাহিনীর হাতে ন্যস্ত করা।

৪. জরুরি কাজে নিয়োজিত কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। তাদের জন্য ঝুঁকি ভাতা সহসামাজিক-অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা বিধান করা।

৫. সরকারের তরফ থেকে যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে তা পুনর্বিন্যাস করে সকল পর্যায়ের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জীবন জীবিকা ও অস্তিত্ব রক্ষার উদ্যোগের আওতায় আনা।

৬. খাদ্য, কৃষি, শিল্প ও উৎপাদন ব্যবস্থা যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য বিকল্প কার্যকর পন্থা উদ্ভাবন। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ। উৎপাদিত পণ্য নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৭. যার যার অবস্থান থেকে সর্বস্তরের মানুষকে পীড়িত, অসহায়, বিপদগ্রস্ত মানুষদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়াতে হবে। এজন্য ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্র সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

৮. রমজানে দ্রব্যমূল্য যেন অনিয়ন্ত্রিতভাবে না বাড়ে সে জন্য সরকারকে এখন থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

৯. জেলা সদর বা মহানগর, উপজেলা বা থানা সদরে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত সরকারি, বেসরকারি ডাক্তার এবং হাসপাতালের সেবা চালু রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

১০. বয়োজ্যেষ্ঠ বন্দী ও রাজনৈতিক কর্মীদের বিশেষ ক্ষমতায় জামিন দেওয়া যেতে পারে। কারাগারে যে সকল চিকিৎসক বন্দী আছেন তাদেরকে মুক্তি বা সাময়িক মুক্তি দিয়ে চিকিৎসা কাজে নিয়োজিত হবার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

১১. আসন্ন বোরো ধানের মৌসুম; কৃষকের ধান আহরণ, মাড়াইসহ যাবতীয় পদ্ধতিগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ। প্রয়োজনীয় যান্ত্রিক সহায়তা, যানবাহন সহায়তা নিশ্চিত করা।

জন আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রীয় সংগঠক, সাবেক সচিব এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী বলেন, জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা ও করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের সংগঠন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। আমরা আমাদের সামর্থ দিয়ে দিনে এনে দিনে খাওয়া অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। জন আকাঙ্খার বাংলাদেশ তার সমস্ত শক্তি দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করে যাবে।

ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের সঞ্চলনায় প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ডাক্তার মেজর (অব:) আবদুল ওহাব মিনার, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, শাহ আবদুর রহমান, যুবনেতা সাজ্জাদ হোসাইন, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, এবিএম খালিদ হাসান, বিএম নাজমুল হক, ওবায়দুল্লাহ মামুন, আনোয়ার সাদাত টুটুল, সাইদ নোমান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী প্রমুখ।

জাগো প্রহরী/ফাইয়াজ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ