করোনা প্রেক্ষাপট: জুমা না জোহর?


আল্লামা মুফতি শামসুদ্দীন জিয়া ৷৷  

১.
করোনা সংক্রমণ বিস্তার রোধে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত নিয়ম তথা ১০ জনের বেশী মুসল্লি নিয়ে জুমা নিষেধ করেছে। এমতাবস্থায় অনেকে ইযনে আম'র (মসজিদে সকলের প্রবেশের অনুমতি থাকা) ব্যাপারে প্রশ্ন তুলছে যে, মসজিদে জুমা হবে কিনা?

এব্যাপারে ফতোয়ায়ে শামীতে আছে শত্রুর আক্রমনের ভয়ে কেল্লার দরওয়াজা বন্ধ করে জুমা আদায় জায়েজ হবে। এর উপর নির্ভর করে বলা যায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ'র ভয়ে মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা নির্ধারণ কিংবা সংকোচন করলেও জুমা শুদ্ধ হবে। উল্লেখ্য, হানাফি মাযহাব মতে ইমামসহ চারজন মুকতাদী হলেও জুমার নামাজ শুদ্ধ হয়।

২.
বর্তমান প্রেক্ষাপটে আরেকটি বিষয় সামনে চলে এসেছে। মসজিদের বাইরে জুমার নামাজ হওয়া না ঘেহওয়া নিয়ে। উলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে ভিন্ন-ভিন্ন মত প্রাকাশ করেছেন। তবে এ বিষয়ে ইতিদাল হলো জুমা না পড়ে নিজ আবাসস্থলে যোহর আদায় করা।

কারণ জুমা ও ঈদের জামায়াতের ব্যাপারে শরীয়তের  মৌলিকত্ব হলো কেন্দ্রীয়করণ তথা বিভিন্নস্থানে না পড়ে একস্থানে পড়া। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে মদীনায় বহু মসজিদ থাকা সত্ত্বেও জুমা হতো মসজিদে নববীতে। উল্লেখ্য, কেউ যদি জুমা মসজিদে জুমা পড়তে না পারে তখন শরীয়ত তাকে অন্যত্র জুমা পড়ার ব্যাপারে ফরজ কিংবা ওয়াজিব এমন কোন বাধ্যবাধকতা দেয়নি। জুমা না পড়ে যোহর পড়লে গুনাহ হবে এমন কথা কোথাও নেই।


হাদিসে আছে কোন ব্যক্তি সুস্থাবস্থায় কিছু এবাদত করতো রোগের কারণে তা করতে পারছেনা এমতাবস্থায় এবাদত না করেও আল্লাহ পাক তাকে পরিপূর্ণ এবাদতের সওয়াব দান করবেন। সরকারি বিধিনিষেধ'র কারণে যাদের প্রচন্ড আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও মসজিদে জুমা ও জামায়াতে শরীক হতে পারছে না। উল্লেখিত হাদিসের আলোকে তারা অবশ্যই জুমা ও জামায়াতে শরীক হবার সওয়াব পাবেন ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ আমাদের সকলকে কবুল করুন। দুনিয়াকে করোনা মুক্ত করুন।

লেখক : প্রধান মুফতি, 
 জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ