লেখালেখির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা



হাফিজুল হক :

যে কোনো আদর্শ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে লেখালেখির গুরুত্ব অপরিসীম ৷ আদর্শকে মানুষের নিকট সুন্দরভাবে কাগজের পাতায় ফুটিয়ে তোলাই দক্ষ লেখকের কাজ ৷ প্রিন্ট মিডিয়া থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াতেও আজ ইসলামপন্হী আদর্শ লেখকের প্রয়োজন ৷ যারা সত্য-সুন্দরের সাথে ন্যায়ের পক্ষে থাকবে ৷ মানবতার পক্ষে থাকবে ৷ ইসলামের পক্ষে থাকবে ৷

আজ বাংলাভাষা, সাহিত্য ও লেখালেখির অঙ্গনে ইসলাম বিদ্বেষীদের দৃপ্ত পদচারণা ৷ গোটা অঙ্গন তাদের বলয়ে আটকা ৷ তাদের নেই কোনো সুস্হ আদর্শ ৷ আছে শুধু ষড়যন্ত্র ও মানবরচিত মতবাদ ৷ নাস্তিকতাই যার চূড়ান্ত পরিণতি ৷ তাই অধিকাংশ লেখালেখি অনর্থক বিষয়ে হয়ে থাকে ৷

আমাদের সমাজে যারা বাম রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত, তারা সব সময় কার্ল মাক্সস,লেলিন ও মাও সেতুংয়ের থিওরীগুলো প্রচার করে ৷ জুলুমবাজ রাশিয়ার এক সময়ের রূপক শাসন চিত্র নিয়ে লেখালেখি করে ৷ তবে এদের মূল টার্গেট ইসলাম ৷ অনলাইন ব্লগে বামরা ইসলামের সার্বিক বিষয়ের বিরোধিতা করে লেখালেখি করে ৷ এদের মাধ্যমে নাস্তিকতার চর্চা চলে ৷ এরাই মুক্তচিন্তার নামে ধর্মবিদ্বেষী,সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী লেখা লিখে থাকে ৷

এর বাইরে জাতীয়তাবাদ,ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, হিন্দুত্ববাদী মতবাদসহ অন্যান্য ভ্রান্ত মতবাদের সাথে যারা সম্পৃক্ত, তারাও নিজ মতাদর্শ প্রচার ও সমর্থনে লেখালেখি করে ৷ মুক্তমনা চিন্তাধারার কূট-কৌশলের স্রোতে এদেরও অনেকে ইসলাম,ইসলামি আদর্শ ও ব্যক্তিত্বদের বিরোধিতা করে ৷ জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের আস্ফালনের নামে অসত্য বিদ্বেষ এবং অপপ্রচার সমাজে ছড়ায় ৷

আমাদের সমাজে উঠতি বয়সী কতক লেখক-লেখিকা আছেন,যারা প্রেম-ভালোবাসার নামে মানুষকে অশ্লীলতার দিকে ঠেলে দেয় ৷ অবৈধ নষ্ট পথ ও পদ্ধতিকে উৎসাহিত করে সমাজব্যবস্হার সুস্হ পথচলাকে থামিয়ে দেয় ৷

একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে দুশমন কখন কোথায়  লড়াই শুরু করছে এবং কীভাবে ময়দানে আছে, তা আমাদের জানতে হবে ৷ এরপর যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে ময়দানে মোকাবিলায় নামতে হবে ৷ যুগের দাবি ও সময়ের গতিধারায় আমাদের লড়াইয়ের প্রধান ক্ষেত্র হলো শিক্ষা,সাহিত্য ও সংস্কৃতি ৷ আজ এ তিন ক্ষেত্রে আমাদেরকে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে ৷ এরই প্রথম ধাপ লেখালেখি ৷

আমাদেরকে মৌলিক পাঁচটি কারণে লেখালেখিতে এগিয়ে আসা উচিৎ ৷ তা হলো প্রথমত : সত্য-ন্যায়ের প্রতি দাওয়াত ৷ সত্য ও ন্যায় আদর্শের প্রতি মানুষকে আহ্বান জানাতে লেখালেখির গুরুত্ব রয়েছে ৷ এর মাধ্যমে সহজে সৎ কাজের আদেশ করা যায় ৷ অনেক সওয়াবও অর্জন করা যায় ৷ দ্বিতীয়ত : অন্যায়ের প্রতিবাদ ৷ যে কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতেও লেখালেখির গুরুত্ব রয়েছে ৷ অন্যায়ের স্বরূপ বিশ্লেষণ করে ন্যায়-বিচার ও অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখা যায় ৷ যা আমরা দৈনন্দিন পত্রিকাগুলোতে দেখে থাকি ৷ এর মাধ্যমে অসৎ কাজের নিষেধও হয়ে থাকে ৷ তৃতীয়ত : সমাজ বিপ্লব ৷ প্রচলিত সমাজব্যবস্হার নানা অসংগতি ও ক্রুটি-বিচ্যূতি দূর করতেও লেখালেখির গুরুত্ব রয়েছে ৷ এর মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখা যায় ৷ আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে জাগ্রত করে ঐক্যবদ্ধ করে থাকে ৷ চতুর্থত : আদর্শ সম্পর্কে অপপ্রচার ও প্রতিরোধ ৷ পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকেই সহিহ আদর্শের বিরুদ্ধে বাতিলের অপপ্রচার চলছে ৷ সে সকল অপপ্রচার ও অভিযোগগুলোর দালিলিক সন্তোষমূলক জবাব প্রদানের মাধ্যমে চিন্তার প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে ৷ পঞ্চমত : প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা ৷ মুসলিম উম্মাহর প্রকৃত ইতিহাসকে দীর্ঘদিন যাবত দুশমন বিকৃত করার চেষ্টা চালাচ্ছে ৷ মুসলিম ইতিহাস - ঐতিহ্যকে কলংকিত করার প্রয়াসে তারা কাজ করে যাচ্ছে ৷ তাই ইসলাম,ইসলামি শাসনামল,মুসলিম রাষ্ট্র ও ব্যক্তিত্বদের সঠিক চিত্র এবং ইতিহাস লেখালেখির মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে ৷

অবশেষে আজ মুসলিম উম্মাহর বাস্তবতায় প্রয়োজন একদল দক্ষ ও যোগ্য প্রতিদ্বন্ধী কলমবন্ধু ৷ যারা ইসলামি চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে সত্যের আলো ছড়াবে,মিথ্যার মুখোশ উন্মোচন করবে ৷ নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা-প্রসারের জন্য লেখালেখির ময়দানে আমাদের আসতেই হবে ৷ শিক্ষা,সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনে আমাদের পরিচয় তুলে ধরতে হবে ৷ আমাদের আদর্শ, ইতিহাস-ঐতিহ্যকে কাগজের পাতায় যত্ম করে জনতার কাছে পৌঁছাতে হবে ৷ তাই জাতীয় কবির ভাষায় বলি,' কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান,হাঁকিছে ভবিষ্যত!' ৷

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য