বর্তমান বিপর্যয় কারণ, প্রতিকার ও মুসলিম উম্মাহর করণীয়-একটি নাতিদীর্ঘ পর্যালোচনা





মুফতি খালেদুজ্জামান :

করোনার কারণে গোটা বিশ্ব আজ স্থবির হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে এর দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে মানব সভ্যতার উপর চরম বিপর্যয় নেমেআসবে। বিশ্বায়নের এই চরম উৎকর্ষতার যুগে বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে। মানুষ ঘরবন্দী হয়ে পড়েছে। বিশ্বের ব্যস্ততম নগরী ও পর্যটন এলাকাগুলো জনশূন্য হয়ে গেছে।https://bit.ly/3awRZvs

জাতিসংঘের মহাসচিব কয়েক মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর আশংকা করেছে। https://bit.ly/2WX37Oy



ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় মানব সভ্যতার উপর এরকম বর্বরতম আগ্রসান ইতিপূর্বে অনেকবার দেখা দিয়েছে। যেমন ৬৮৮ খ্রিষ্টাব্দের তাউনে জারিফ বা জারিফ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছিল ইরাকের বসরায়। তখন বসরা ছিল হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর রা.-এর শাসনাধীন এলাকায়। তখনও অনেক সাহাবি বেঁচে ছিলেন দুনিয়ায়।
ভাইরাসটি স্থায়ী ছিল মাত্র চারদিন। কিন্তু এ চারদিনেই বসরার প্রায়সব মানুষ মরে শেষ হয়ে যায়। প্রথমদিনে ৭০ হাজার, দ্বিতীয়দিনে ৭২ হাজার, তৃতীয়দিনে ৭৩ হাজার, চতুর্থদিনে তো গুটিকতক লোক ছাড়া বাকি সবাই মৃত্যমুখে পতিত হয়!
এতবেশি পরিমাণ লোক মারা যায় যে, দাফন-কাফনের কোনো লোক খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্বয়ং বসরার গভর্নরের মায়ের দাফন-কাফনের জন্য চারজন লোককে ভাড়া করে আনা হয়েছিল।
বসরার অলিগলি ভরে গিয়েছিল মরা লাশের স্তুপে। বন্য প্রাণীরা বেরিয়ে এসে, লাশগুলো ছিঁড়েফেড়ে খেয়েছিল। চিল, শকুন আর কাকের দল তো ছিলই। বলতে গেলে, বসরা হয়ে গিয়েছিল একটি মৃত্যুপুরী শহর।
বসরার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজে মাত্র সাতজন পুরুষ আর একজন নারী মুসল্লি উপস্থিত হয়েছিল। খুতবায় ইমাম সাহেব বলেছিলেন–আগের চেহারাগুলো কোথায়, দেখি না কেন? মহিলা উত্তর দিয়েছিলেন–চেহারাগুলো মাটির নিচে!
ভাইরাসে পুরো বসরার লোকজন মারা গিয়েছিল। লাশ দাফনের লোক পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। প্রয়োজনে দূরের লোকজন ভাড়া করে এনে দাফনকাজ সম্পন্ন করতে হয়েছিল। বসরার অলিগলি ভরে গিয়েছিল লাশ আর লাশে। তবুও জুমার নামাজ বন্ধ হয়নি। মাত্র আটজন হলেও মুসল্লি হাজির হয়েছিল।
১৩৪৬ ইং সাল থেকে নিয়ে প্রায় ১০ বছর ইতিহাসের সবচে বড় মহামারী হয়েছিল বিশ্বজুড়ে। আরবিতে আলমাউতুল আসওয়াদ নাম দেয়া হয়েছিল সেটিকে। আলমাউতুল আসওয়াদ অর্থ কালো মড়ক।
দামেস্কে একেক দিনে ৭০ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল তখন। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে করোনার মতো কালো মড়কের সূচনাও হয়েছিল চীন থেকে। ইউরোপের মানুষ সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সেই মহামারীতে।
মিসরের আলেক্সান্ডার এলাকায়ও একেকদিন ২০ হাজার মানুষ মরেছিল। পুরো পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক মানুষ মৃত্যু মুখে নিপতিত হয়েছিল মড়ক শেষের হিসাবে। আধুনিক জরিপ না হলেও ঐতিহাসিকদের দেয়া তথ্য সে সময়ের অবস্থা বুঝতে আমাদের সাহায্য করে।
আরবি ভাষায় তখন অসংখ্য পুস্তক লেখা হয়েছে মহামারী নিয়ে। সবচে বিখ্যাত কিতাব লিখেছেন হাফেজ ইবন হাজার আসকালানি। মৃ. ৮৫২ হিজরি। ইবন হাজারের (রহ.) দুই কন্যাও তার সময়ের মহামারীতে মারা গিয়েছিল। ইবন হাজার রচিত কিতাবের নাম বাযলুল মাউন ফি ফাজলিত তাউন।
বিশ্ববিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা রহ. ৭৪৯ হিজরির দামেস্কের বর্ণনা দিয়েছেন। সেখানে মহামারীর ফলে পথে-ঘাটে মানুষ মরে পড়ে ছিল। আকাশে শকুন উড়ছিল। বড় বড় গর্ত খুঁড়ে লাশগুলো টেনে গর্তে নামানো হচ্ছিল। এ সময় মুসলমানরা সবাই কুরআন হাতে পথে বেরিয়ে আসে। তিনদিন সবাই রোজা রেখেছিল।
খৃস্টানরা বাইবেল হাতে ইহুদিরা তাওরাত হাতে পথে নেমে আসে। সম্মিলিতভাবে সবাই মহান প্রভুর কাছে মিনতি করে। অবশেষে আল্লাহ তায়ালা রহম করেন। বস্তুত অবস্থা যদি সেই পর্যায়ে যায় আমাদের কোনো সতর্কতাই কাজে আসবে না।
সর্বপ্রথম চায়নার উহান শহরে ভাইরাসটা প্রথম হানা দেয় জানুয়ারি মাসের ৮ তারিখ।  যে মার্কেট থেকে সংক্রমণ শুরু হয় সেদিনই পুরো শপিং মল জনশূন্য করে পরিষ্কার করা হয়। অতপর চলে যায় দীর্ঘদিন, ভিতরে ভিতরে তারা চেষ্টা চালিয়ে যায়৷ কিন্তু এরমধ্যেই ঘটে যায় সব, গণসংক্রমণ হয়ে মারা যেতে থাকে মানুষ।
শেষমেশ অপারগ হয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা- who- কে জানায় ৩১ তারিখ। এর মাঝ সময়টায় স্বাভাবিকভাবেই চলেছিল সব। পুরো বিশ্ব জানার পর শুরু হয় সতর্কতা। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয় চায়নার সাথে। কিন্তু ততক্ষণে ভাইরাস ব্যাপকভাবে সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে।
প্রখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও মানবাধিকারকর্মী পিয়ারস করবিন দাবী করেছেন,  প্রাণঘাতী

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় মানব সভ্যতার উপর এরকম বর্বরতম অাগ্রাসন ইতিপূর্বে অনেকবার দেখা দিয়েছে। যেমন ৬৮৮ খ্রিষ্টাব্দের তাউনে জারিফ বা জারিফ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছিল ইরাকের বসরায়। তখন বসরা ছিল হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর রা.-এর শসানাধীন এলাকায়। তখনও অনেক সাহাবি বেঁচে ছিলেন দুনিয়ায়।
ভাইরাসটি স্থায়ী ছিল মাত্র চারদিন। কিন্তু এ চারদিনেই বসরার প্রায়সব মানুষ মরে শেষ হয়ে যায়। প্রথমদিনে ৭০ হাজার, দ্বিতীয়দিনে ৭২ হাজার, তৃতীয়দিনে ৭৩ হাজার, চতুর্থদিনে তো গুটিকতক লোক ছাড়া বাকি সবাই মৃত্যমুখে পতিত হয়!
এতবেশি পরিমাণ লোক মারা যায় যে, দাফন-কাফনের কোনো লোক খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্বয়ং বসরার গভর্নরের মায়ের দাফন-কাফনের জন্য চারজন লোককে ভাড়া করে আনা হয়েছিল।
বসরার অলিগলি ভরে গিয়েছিল মরা লাশের স্তুপে। বন্য প্রাণীরা বেরিয়ে এসে, লাশগুলো ছিঁড়েফেড়ে খেয়েছিল। চিল, শকুন আর কাকের দল তো ছিলই। বলতে গেলে, বসরা হয়ে গিয়েছিল মৃত্যুপুরী।
বসরার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজে মাত্র সাতজন পুরুষ আর একজন নারী মুসল্লি উপস্থিত হয়েছিল। খুতবায় ইমাম সাহেব বলেছিলেন–আগের চেহারাগুলো কোথায়, দেখি না কেন? মহিলা উত্তর দিয়েছিলেন–চেহারাগুলো মাটির নিচে!
ভাইরাসে পুরো বসরার লোকজন মারা গিয়েছিল। লাশ দাফনের লোক পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। প্রয়োজনে দূরের লোকজন ভাড়া করে এনে দাফনকাজ সম্পন্ন করতে হয়েছিল। বসরার অলগলি ভরে গিয়েছিল লাশ আর লাশে। তবুও জুমার নামাজ বন্ধ হয়নি। মাত্র আটজন হলেও মুসল্লি হাজির হয়েছিল।
১৩৪৬ ইং সাল থেকে নিয়ে প্রায় ১০ বছর ইতিহাসের সবচে বড় মহামারী হয়েছিল বিশ্বজুড়ে। আরবিতে আলমাউতুল আসওয়াদ নাম দেয়া হয়েছিল সেটিকে। আলমাউতুল আসওয়াদ অর্থ কালো মড়ক।
দামেস্কে একেক দিনে ৭০ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল তখন। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে করোনার মতো কালো মড়কের সূচনাও হয়েছিল চীন থেকে। ইউরোপের মানুষ সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সেই মহামারীতে।
মিসরের আলেক্সান্ডার এলাকায়ও একেকদিন ২০ হাজার মানুষ মরেছিল। পুরো পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক মানুষ মৃত্যু মুখে নিপতিত হয়েছিল মড়ক শেষের হিসাবে। আধুনিক জরিপ না হলেও ঐতিহাসিকদের দেয়া তথ্য সে সময়ের অবস্থা বুঝতে আমাদের সাহায্য করে।
আরবি ভাষায় তখন অসংখ্য পুস্তক লেখা হয়েছে মহামারী নিয়ে। সবচে বিখ্যাত কিতাব লিখেছেন হাফেজ ইবন হাজার আসকালানি। মৃ. ৮৫২ হিজরি। ইবন হাজারের (রহ.) দুই কন্যাও তার সময়ের মহামারীতে মারা গিয়েছিল। ইবন হাজার রচিত কিতাবের নাম বাযলুল মাউন ফি ফাজলিত তাউন।
বিশ্ববিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা রহ. ৭৪৯ হিজরির দামেস্কের বর্ণনা দিয়েছেন। সেখানে মহামারীর ফলে পথে-ঘাটে মানুষ মরে পড়ে ছিল। আকাশে শকুন উড়ছিল। বড় বড় গর্ত খুঁড়ে লাশগুলো টেনে গর্তে নামানো হচ্ছিল। এ সময় মুসলমানরা সবাই কুরআন হাতে পথে বেরিয়ে আসে। তিনদিন সবাই রোজা রেখেছিল।
খৃস্টানরা বাইবেল হাতে ইহুদিরা তাওরাত হাতে পথে নেমে আসে। সম্মিলিতভাবে সবাই মহান প্রভুর কাছে মিনতি করে। অবশেষে আল্লাহ তায়ালা রহম করেন। বস্তুত অবস্থা যদি সেই পর্যায়ে যায় আমাদের কোনো সতর্কতাই কাজে আসবে না।
সর্বপ্রথম চায়নার উহান শহরে ভাইরাসটা প্রথম হানা দেয় জানুয়ারি মাসের ৮ তারিখ।  যে মার্কেট থেকে সংক্রমণ শুরু হয় সেদিনই পুরো শপিং মল জনশূন্য করে পরিষ্কার করা হয়। অতপর চলে যায় দীর্ঘদিন, ভিতরে ভিতরে তারা চেষ্টা চালিয়ে যায়৷ কিন্তু এরমধ্যেই ঘটে যায় সব, গণসংক্রমণ হয়ে মারা যেতে থাকে মানুষ।
শেষমেশ অপারগ হয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা- who- কে জানায় ৩১ তারিখ। এর মাঝ সময়টায় স্বাভাবিকভাবেই চলেছিল সব। পুরো বিশ্ব জানার পর শুরু হয় সতর্কতা। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয় চায়নার সাথে। কিন্তু ততক্ষণে ভাইরাস ব্যাপকভাবে সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে।
প্রখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও মানবাধিকারকর্মী পিয়ারস করবিন দাবী করেছেন,  প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস বা ক্যাভিড-১৯ ছড়ানোর পেছনে মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবসায়ী বিলিয়নিয়ার বিল গেটস ও বিনিয়োগ মোগল খ্যাত জর্জ সরোসের মতো অতি ধনীদের হাত রয়েছে। ভাইরাসটি পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয়েছে। উল্লেখ্য তিনি ব্রিটিশ রাজনীতিক ও লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনের বড় ভাই। সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।
নিজের অনুসারী ও ভক্তদের উদ্দেশে পিয়ার্স করবিন  বলেন, করোনা ছড়ানো হয়েছে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে। এর নেপথ্যে রয়েছে বিল গেটস ও জর্জ সরোসের মতো অতি ধনী ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা।’
ওই বিজ্ঞানী বলেন, বিষাক্ত ভ্যাকসিনের মাধ্যমে বিশ্বের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও কমিয়ে ফেলাই এর লক্ষ্যে। করোনার ভ্যাকসিন না নেয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। বিশ্বজুড়ে মহামারী পরিস্থিতির মধ্যে সোমবার এক টুইট বার্তায় এসব কথা বলেন পিয়ার্স।
তিনি বলেছেন, এর উদ্দেশ্য, জোরপূর্বক বিষাক্ত ভ্যাকসিনের মাধ্যমে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমিয়ে ফেলা। কারণ তাদের মতে, জনসংখ্যার কারণে পরিবেশ ও জলবায়ুর ক্ষতি হচ্ছে। করোনা ভ্যাকসিনকে ‘না’ বলুন।’
প্রসঙ্গত, বিশ্বের অতি ধনীদের নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে বহু বছর ধরেই সোচ্চার পিয়ার্স করবিন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে কথা বলে গত বছর সেপ্টেম্বরই প্রথমবারের মাধ্যমে শিরোনাম হন তিনি। ইইউকে তিনি ‘ফোর্থ রাইখ’ অভিহিত করে কঠোর সমালোচনা করেন।
আবার অনেকে বলছেন এটা মানবসৃষ্ট নয় বরং প্রাকৃতিক।https://bit.ly/3dIPisD
সম্প্রতি আমেরিকার এক গবেষণায় উঠে এসেছে চীন এটা কীটপতঙ্গ নিধনের জন্য আবিষ্কার করেছিলো। কিন্তু অসতর্কায় তা ছড়িয়ে পড়ে।https://bit.ly/2Uvf2S0
মহামারী সম্পর্কে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি….
করোনাসহ যেকোনো মহামারির প্রকৃত কারণ হচ্ছে  মানবজাতির ব্যাপকহারে গুনাহ ও আল্লাহ তা’আলার নাফরমানীতে লিপ্ত হওয়া।
আল্লাহ বলেন-
 ﴿وَمَاۤ أَصَـٰبَكُم مِّن مُّصِیبَةࣲ فَبِمَا كَسَبَتۡ أَیۡدِیكُم….﴾ ( سورةالشورى ٣٠)
অর্থাৎ: আর তোমাদের যে বিপদ আপদ ঘটে,তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল।
﴿وقال:ظَهَرَ ٱلۡفَسَادُ فِی ٱلۡبَرِّ وَٱلۡبَحۡرِ بِمَا كَسَبَتۡ أَیۡدِی ٱلنَّاسِ لِیُذِیقَهُم بَعۡضَ ٱلَّذِی عَمِلُوا۟ لَعَلَّهُمۡ یَرۡجِعُونَ﴾ (سورة الروم -٤١)
অর্থাৎ: মানুষের কৃতকর্মের দরুন জলে ও
স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কতক কৃতকর্মের স্বাদ গ্রহণ করাবেন-হয়তো এর ফলে তারা ফিরে আসবে।
আল্লাহ তা’আলা উক্ত আয়াতে স্পষ্টভাবে কী  জানিয়ে দেননি ? এই বিপদ, মহামারি ইত্যাদি থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় হলো। তাওবা, ইস্তিগফার, নামায, তিলাওয়াত এবং দু’আ ইত্যাদির মাধ্যমে  তার দিকে প্রত্যাবর্তন করা। তিনি আমাদের উপর যাকিছু ওয়াজিব হিসাবে অবধারিত করেছেন- জুম’আ, জামাতে নামায ইত্যাদি ছেড়ে দেয়া পরিত্রাণের উপায় নয়।
আল্লাহ তা’আলা বলেছেন-
﴿ مَاۤ أَصَابَ مِن مُّصِیبَةࣲ فِی ٱلۡأَرۡضِ وَلَا فِیۤ أَنفُسِكُمۡ إِلَّا فِی كِتَـٰبࣲ مِّن قَبۡلِ أَن نَّبۡرَأَهَاۤۚ إِنَّ ذَ ٰ⁠لِكَ عَلَى ٱللَّهِ یَسِیرࣱ﴾ (سورة الحديد.22)
অর্থাৎ: পৃথিবীতে অথবা তোমাদের প্রাণের উপর যেসব মুসিবত দেখা দেয়,তার সব কটিই জগৎ সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে।
﴿ قُل لَّن یُصِیبَنَاۤ إِلَّا مَا كَتَبَ ٱللَّهُ لَنَا هُوَ مَوۡلَانَاۚ وَعَلَى ٱللَّهِ فَلۡیَتَوَكَّلِ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ﴾
(سورة التوبة ٥١)
অর্থাৎ:আপনি বলুন। আমাদের কাছে কিছুই পৌছবে না, কিন্তু যা আল্লাহ আমাদের জন্য রেখেছেন। তিনি আমাদের কার্যনির্বাহক। আল্লাহর উপরই মুমিনদের ভরসা করা উচিত।
﴿قُل لَّوۡ كُنتُمۡ فِی بُیُوتِكُمۡ لَبَرَزَ ٱلَّذِینَ كُتِبَ عَلَیۡهِمُ ٱلۡقَتۡلُ إِلَىٰ مَضَاجِعِهِمۡۖ ﴾(سورة آل عمران ١٥٠)
অর্থাৎ:আপনি বলে দিন। তোমরা যদি নিজেদের ঘরেও থাকতে, তবুও তারা বেরিয়ে আসতো নিজেদের অবস্থান থেকে, যাদের মৃত্যু লিখে দেয়া হয়েছে।
তেমনিভাবে রাসূল সা.বলেছেন-
﴿ وَاعْلَمْ أَنَّ الْأُمَّةَ لَوْ اجْتَمَعَتْ عَلَى أَنْ يَنْفَعُوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَنْفَعُوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللهُ لَكَ وَلَوْ اجْتَمَعُوا عَلَى أَنْ يَضُرُّوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَضُرُّوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللهُ عَلَيْكَ﴾  (رواه احمد والترمذي وقال حسن صحیح)
অর্থাৎ; জেনে রেখ ! সমগ্র উম্মতের লোকেরা কোনো ব্যাপারে তোমার ফায়দা দেয়ার জন্য  যদি একত্রিত হয়, তবুও তোমার জন্য আল্লাহর লিপিবদ্ধকৃত ব্যতীত কোনো ফায়দা পৌঁছাতে পারবে না। তদ্রূপ যদি তোমার ক্ষতি সাধন করতে একত্রিত হয়, তবুও আল্লাহর লিপিবদ্ধকৃত
ব্যতীত কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (মুসনাদে আহমাদ, সুনানে তিরমিযী)।
ছোঁয়াচে রোগ সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টি ভঙ্গি।
وَقَالَ عَفَّانُ حَدَّثَنَا سَلِيمُ بْنُ حَيَّانَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مِينَاءَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُوْلُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لاَ عَدْو‘ى وَلاَ طِيَرَةَ وَلاَ هَامَةَ وَلاَ صَفَرَ وَفِرَّ مِنَ الْمَجْذُومِ كَمَا تَفِرُّ مِنْ الأَسَدِ.
আফফান (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
সালীম ইবনু হাইয়ান, আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রোগের কোন সংক্রমন নেই, কুলক্ষণ বলে কিছু নেই, পেঁচা অশুভের লক্ষণ নয়, সফর মাসের কোন অশুভ নেই। কুষ্ঠ রোগী থেকে দূরে থাক, যেভাবে তুমি বাঘ থেকে দূরে থাক।(সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৭০৭)।
উক্ত হাদীসের প্রথমাংশে ছোঁয়াচে রোগকে সম্পুর্ণরূপে অস্বীকার করা হয়েছে আর শেষাংশে বলা হয়েছে কুষ্ঠ রোগী বাঘের ন্যায় পলায়ন কর। এতে বাহ্যত হাদীস দুটির মধ্যে সাংঘর্ষিক মনে হয়। মুহাদ্দিসীনে কেরাম উক্ত প্রশ্নের জবাব এভাবে দিয়েছেন যে, মূলত মুআচ্ছিরে হাকীকী বা প্রকৃত কার্যকরী হিসেবে কোনো ছোয়াচে রোগ নেই। কেননা সবকিছুর মধ্যে মুআচ্ছিরে হাকীকী বা সত্বাগত কার্যকারী একমাত্র আল্লাহই। আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কোনো কিছু প্রতিফলিত হতে পারে না। হাদীসের প্রথমাংশে একথাই বলা হয়েছে। আর হাদীসের দ্বিতীয়াংশে যে বলা হয়েছে, কুষ্ঠ রোগী থেকে পলায়ন কর এটা মূলত দূর্বল ঈমানদারদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কেননা আল্লাহর হুকুমে কোনো দূর্বল ঈমানের অধিকারী ব্যক্তি কুষ্ঠ রোগীর সংস্পর্শে আসার কারণে তার মধ্যে কুষ্ঠ রোগ সৃষ্টি হলে সে বিশ্বাস করবে এই রোগ তার মধ্যে কুষ্ঠ রোগী থেকে সংক্রমিত হয়েছে। যা শিরকী আকীদা। সুতরাং কোনো দূর্বল ঈমানের অধিকারী ব্যক্তি যেন ঈমানহারা না হয় এজন্য কুষ্ঠ রোগী থেকে পলায়ন করতে বলা হয়েছে। করোনার বিষয়টিও কুষ্ঠ রোগের মতোই। কুষ্ঠ রোগী থেকে দূরে থাকা যেমন ঈমানের পরিপন্থি নয় (যদি ছোঁয়াচে রোগ মনে না করে) তদ্রূপ করোনা রোগী থেকে দূরুত্ব অবলম্বন করাও ঈমানের পরিপন্থি নয়।
মহামারী কাফেরদের জন্য আজাব আর মুমিনদের জন্য রহমত।
إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا حَبَّانُ حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي الْفُرَاتِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ بُرَيْدَةَ عَنْ يَحْيٰى بْنِ يَعْمَرَ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا أَخْبَرَتْنَا أَنَّهَا سَأَلَتْ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ الطَّاعُونِ فَأَخْبَرَهَا نَبِيُّ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّه“كَانَ عَذَابًا يَبْعَثُهُ اللهُ عَلٰى مَنْ يَشَاءُ فَجَعَلَهُ اللهُ رَحْمَةً لِلْمُؤْمِنِينَ فَلَيْسَ مِنْ عَبْدٍ يَقَعُ الطَّاعُونُ فَيَمْكُثُ فِي بَلَدِه„ صَابِرًا يَعْلَمُ أَنَّه“لَنْ يُصِيبَه“إِلاَّ مَا كَتَبَ اللهُ لَه“إِلاَّ كَانَ لَه“مِثْلُ أَجْرِ الشَّهِيدِ تَابَعَهُ النَّضْرُ عَنْ دَاوُدَ.
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে মহামারি রোগ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তখন আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে জানান যে, এটি হচ্ছে এক রকমের আযাব। আল্লাহ যার উপর তা পাঠাতে ইচ্ছে করেন, পাঠান। কিন্তু আল্লাহ এটিকে মুমিনদের জন্য রহমাত বানিয়ে দিয়েছেন। অতএব প্লেগ বা মহামারি রোগে কোন বান্দা যদি ধৈর্য ধরে, এ বিশ্বাস নিয়ে আপন শহরে অবস্থান করতে থাকে যে, আল্লাহ তার জন্য যা নির্দিষ্ট করে রেখেছেন তা ছাড়া আর কোন বিপদ তার উপর আসবে না; তাহলে সেই বান্দার জন্য থাকবে শহীদের সাওয়াবের সমান সাওয়াব। দাঊদ থেকে নাযরও এ রকম বর্ণনা করেছেন। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৭৩৪)।
এমন নাযুক পরিস্থিতিতে আমাদের করণীয় কী?
এ বিষয়ে করণীয় তিন প্রকারে বিভক্ত ১. মাসনুন দোয়া ও আমলের প্রতি অধিক যত্নবান হওয়া। ২.আমালে মুজাররাব বা বুযুর্গানে কেরামের পরীক্ষিত আমল করা। ৩. মহামারী প্রতিরোধ করার জন্য হাদীসে বর্ণিত পন্থা অনুসরণ করা। ৪. বাহ্যিক উপকরণ হিসেবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ফর্মুলা পালন করা।
১. অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবাধ্য মানবজাতির উপর আল্লাহর গজব। কেননা এযাবত প্রাপ্ত তথ্য মতে নন মুসলিম কান্ট্রিগুলোই বেশী আক্রান্ত হয়েছে। মুসলিমদের মধ্যে যারা নন প্র্যাট্রিকেল তারাই শুধু আক্রান্ত হয়েছে।
এজন্য আমাদের খুব বেশী আল্লাহর প্রতি মুতাওয়াজ্জুহ হওয়া দরকার। বিশেষ করে মাসনুন দোয়া ও আমলের প্রতি। এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসনুন দোয়া ও আমল।
১. সকাল সন্ধার মাসনুন দোয়ার উপর পাবন্দি করা। এক্ষেত্রে ইমাম নববীর আল-আযকার একটি উৎকৃষ্ট গ্রন্থ।
২. নিম্নোক্ত দোয়াটি অধিক পরিমাণে পড়া।
  الهم انی اعوذ بک من البرص و الجنون و الجذام و من سیٸ السقام.
(সুনানে আবু দাউদ হাদীস নং-১৫৫৪)
৩. নিম্নের দু’টি দোআ বেশি বেশি পাঠ করুন।
١. لا اله الا انت سبحانك اني كنت من الظالمين.
٢. اللهم ارفع عنا البلاء والوباء.
৪. ঘর থেকে বের হওয়া ও পানাহারের সময় নিম্নের দোআটি বেশি করে পাঠ করুন।
بسم الله الذي لا يضر باسمه شيئ في الارض ولا في السماء وهو السميع العليم.
৫.  নিম্নোক্ত দোয়াটি সকাল সন্ধ্যায় তিনবার পাঠ করা।
اعوذ بكلمات الله التامات من شر ما خلق
প্রয়োজনে দোয়াটি লিখে তাবীজ হিসেবে ছোট বাচ্চাদের গলায় সাময়িক লটকানো যেতে পারে। (সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস নং-২৭০০)।
৬. বাসা থেকে বের হওয়ার সময় নিম্নোক্ত দোয়াটি পাঠ করলে অদৃশ্য থেকে তাকে বলা হয় তুমি হেদায়েতপ্রাপ্ত হয়েছো, রক্ষা পেয়েছ ও নিরাপত্তা লাভ করেছো।
بسم الله توکلت علی الله لا حول ولا قوة الا بالله
(সুনানে আবু দাউদ হাদীস নং-৫০৯৫)
৬. প্রত্যেক নামাযের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করে নিজেকে ও পরিবারের সকলকে ফুঁক দিন।
২. ক, প্রথমদিন সুরায়ে তাগাবুন একচল্লিশবার এরপর সমস্যা দূর হওয়া বা উদ্দেশ্য পূরণ হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন একবার করে তেলাওয়াত করা। পাকিস্তানের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা যারওয়ালী খান দা. বা. বলেন, আমি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ার পর এই আমল যেদিন করি সেদিন একাই দাঁড়িয়ে যাই এবং পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাই।
খ, শায়খুল ইসলাম আল্লামা তাকী উসমানীকে একজন তাবলীগী বুজুর্গ স্বপ্নে যে আমলের কথা বলেছেন, তা আমাদের জন্যে আশাজাগানিয়া।
স্বপ্ন শরীয়তের দলীল নয় সত্য। কিন্তু স্বপ্নে যদি শরীয়ত সমর্থিত ভালো কাজের নির্দেশ পাওয়া যায় তবে তা অবশ্যই উৎসাহজনক। তা করাই শ্রেয়।এটা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বাপ্নিক নির্দেশনা। যিনি দেখেছেন, তিনি একজন বুজুর্গ। যিনি বলেছেন, তিনি একজন শ্রেষ্ঠ আলেম।
স্বপ্নে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে তিনটি আমল করা যায়।
ক, তিনবার বিসমিল্লাহ সহ সুরা আল-ফাতেহা, (আলহামদু সুরা)
খ, তিনবার বিসমিল্লাহ সহ সুরা আল- ইখলাস,(ক্বুলহুওল্লাহ সূরা)
গ,  حسبنا الله ونعم الوکیل ৩১৩ বার, উচ্চারণঃ-(হাসবুনাল্লাহু ওয়ানি’মাল ওয়াকীল)
এই আমলটি প্রতিদিন করতে হবে না। একবার করলেই হবে। ইনশাআল্লাহ বেঁচে যাবেন। প্রথমবার আউজুবিল্লাহ সহ সূরায়ে ফাতেহা ও সুরায়ে ইখলাসের শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়তে হবে।
৩. বলাবাহুল্য রোগ নির্মূলের চেয়ে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা অধিক সতর্কতার দাবি। এজন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, الحمیة نصف الداء. অর্থাৎ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহন করা অর্ধ চিকিৎসা। মহামারী প্রতিরোধের জন্য রাসুলুল্লাহ সাঃ হাদীসে অত্যন্ত সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন , لَا يُورِدُ مُمْرِضٌ عَلَى مُصِحٍّ “অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ ব্যক্তির কাছে উপস্থিত করা যাবে না”।  (বুখারী হা/৫৩২৮ ও মুসলিম হা/৪১১৭)।
ইমাম নববী বলেন, কেননা এতে যদি আল্লাহর হুকুমে সুস্থ ব্যক্তি আক্রান্ত হয়, তাহলে সে তার তকদ্বীরের প্রতি বিশ্বাস না করে ঐ ব্যক্তিকে দোষারোপ করবে, ফলে তার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। (শরহে মুসলিম ৭/৩৭৩)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
  إِذَا سَمِعْتُمْ بِالطَّاعُونِ بِأَرْضٍ فَلَا تَدْخُلُوهَا وَإِذَا وَقَعَ بِأَرْضٍ وَأَنْتُمْ بِهَا فَلَا تَخْرُجُوا مِنْهَ
   “ কোন এলাকায় তোমরা মহামারীর সংবাদ শ্রবন  করলে সেখানে প্রবেশ করবে না। আর কোন এলাকায় থাকা অবস্থায় যদি মহামারী শুরু হয়, তবে তোমরা সেখান থেকে বের হবে না”। (বুখারী হা/৫২৮৭ ও মুসলিম হা/৪১১১)
দ্বিতীয়তঃ যে লোকের ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তাকে আলাদা থাকতে হবে বা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ যাদেরকে কোয়ারেন্টাইন করেছে তার উপর ওয়াজিব হচ্ছে, এ সিদ্ধান্ত মেনে চলা এবং নিজস্ব ঠিকানা বা আবাসস্থলে অবস্থান করা।
শারীদ বিন সুওয়াইদ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,
كَانَ فِي وَفْدِ ثَقِيفٍ رَجُلٌ مَجْذُومٌ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّا قَدْ بَايَعْنَاكَ فَارْجِعْ
ছাক্বীফ গোত্রের লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট বায়াত করতে এল। তখন তাদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিল যে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত ছিল।  তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তাঁর কাছে না ডেকে বরং লোক পাঠিয়ে জানিয়ে দিলেন যে, আমি তোমার বায়াত নিয়ে নিয়েছি, অতএব তুমি ফিরে যাও।  (সহীহ মুসলিম হা/৪১৩৮)
তৃতীয়তঃ যে ব্যক্তি এই আশঙ্কা করবে যে সে নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হবে অথবা অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে তাহলে সে একান্ত বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে গমন করবে না। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ “নিজের ক্ষতি করা যাবে না অন্যের ক্ষতি করা যাবে না”। (ইবনে মাজাহ হা/২৩৩১)
আল্লাহ বলেন,
وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ وَإِنْ يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلَا رَادَّ لِفَضْلِهِ يُصِيبُ بِهِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَهُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
“আল্লাহ যদি তোমাকে বিপদে ফেলেন তবে তিনি ব্যতীত তা থেকে উদ্ধার করার ক্ষমতা কারো নেই। আর তিনি যদি তোমার কল্যাণের ইচ্ছা করেন তবে তাঁর অনুগ্রহ প্রতিহত করার ক্ষমতা কারো নেই। তাঁর বান্দাদের মধ্যে তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে কল্যাণ দান করেন, আর তিনি অধিক ক্ষমাশীল ও পরম করুণাময়।” (সূরা ইউনুস: ১০৭)
৪. ক, উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশে আল্লামা তাকী উসমানির (হাফি.) নসিহত
১. জুমার দুটি খুতবা সংক্ষিপ্ত করুন।
২. মুসাফাহা ত্যাগ করুন।
৩. তাওবা ইস্তিগফার ও যাবতীয় দুআর ইহতিমাম করুন।
৪. সতর্কতামূলক গ্রহণের পাশাপাশি আল্লাহর ওপর ভরসা করুন।
৫. আতংক ছড়াবেন না।
৬. সবসময় অজু অবস্থায় থাকুন।
৭. কার্পেট সরিয়ে খালি জমিনে নামাজ আদায়। খালি জমিন বারবার পরিষ্কার করা তুলনামূলক সহজ।
৮. ফরজের আগে-পরে সুন্নতগুলো বাসায় পড়ুন।
ডা. মুজিবুর রহমান,  সি ডি সি, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, করোনা প্রতিরোধে নিম্নোক্ত ফর্মুলা দিয়েছেন। শরয়ী সম্পাদনা করেছেন
মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী মহাপরিচালক, ঢাকা সেন্টার ফর দাওয়াহ এন্ড কালচার।
ক, সবাই হাত ধুতে বলছেন। কারণ হাতের স্পর্শেই এ ভাইরাস ছড়ায় বেশি। কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন আপনার কাপড়, মাথার চুল, পায়ের জুতা যেগুলি আমরা বাইরে থেকে এসে ধুই না, কিংবা বদলাই না এগুলির মাধ্যমেও করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে। তাই বাহির থেকে এসে যদি গোসল করেন তাহলে সবচেয়ে ভালো হয়।
খ, মনে রাখবেন করোনাভাইরাসের কারনে শ্বাসনালী ও খাদ্যনালী খুব সহজেই আক্রান্ত হয়। এটাকে প্রতিহত করার জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। তাছাড়া রেগুলার ব্রিথিং এক্সারসাইস করুন যা আপনার ফুসফুসকে কার্যক্ষম রাখতে সাহায্য করবে।
গ, খাদ্যাভ্যাসকে একদমই বদলে ফেলুন। খাবারের তালিকা থেকে ফাস্টফুড, কোক, অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার বাদ বাদ দিন। সিগারেট, জর্দা এড়িয়ে চলুন। কারন এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়।
ঘ, প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার খান। যেমন লেবু, গাজর, টমেটো, ক্যাপসিকাম, পালং শাক, পুদিনা পাতা, কমলা, গ্রিন টি ইত্যাদি। এতে আপনার শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। যা করোনা ভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে সহায়তা করবে।
ঙ, নিজে ও নিজের চারপাশ পরিষ্কার রাখুন। যেখানে সেখানে থুথু ফেলা থেকে বিরত থাকুন। মুসলিমরা ৫ ওয়াক্ত নামায পড়ুন। করোনা প্রতিরোধে মুসলিমরা যেহেতু দৈনিক ৫ বেলা ওজু করতে হয় তাই পরিষ্কার পরিচ্ছিন্নতার বেনেফিটও বেশি পাবেন।সম্ভব হলে সারাক্ষণ ওজু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করুন। অন্যান্য ধর্মের মানুষরা তাদের ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী প্রার্থনা করুন । কারণ এ বিপদ শুধু আমার বা আপনার নয়। এ বিপদ পুরো জাতির, পুরো পৃথিবীর।
চ, সিঁড়ির রেলিং বিশেষ করে লিফট এর ভেতরের রেলিংয়ে হাত দিয়ে ধরা বা হেলান দেয়ার অভ্যাস বন্ধ করুন। লিফটের ভিড় এড়িয়ে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। বাইরের কোনো কিছুর হাতল যেমন গাড়ির ও দরজার হাতল ইত্যাদি ধরার আগে টিস্যু বা রুমাল ব্যবহার করুন। বাসাবাড়ি, লিফট, সিঁড়ি পরিষ্কার রাখুন। প্রতিদিনের ময়লা প্রতিদিন ফেলে দিন। তবে যে কাজটাই করেন না কেন অবশ্যই
জীবানুনাশক ব্যবহার করুন।
ছ, রাস্তার পাশের খাবার বিশেষ করে চা, সিংগারা, ভেলপুরি, ফুচকা, চটপটি ও নানান স্ট্রিটফুড আপাতত এড়িয়ে চলুন। ট্রাস্ট মি, অস্বাস্থ্যকর স্ট্রিটফুড খাওয়ার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর ভয়াবহতা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। তাই এগুলো এড়িয়ে চলুন। বাসায় তো নিয়ে আসবেনই না।
জ, বাইরে যদি একান্তই চা পান করতে হয়ে তাহলে খেয়াল করুন চাযের কাপ ভালো করে গরম পানিতে ধোয়া হয়েছে কি না। চায়ের সাথে বিস্কিট, কেক কিংবা পলিথিনে ভরে রাখা কোনোকিছু খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারন এগুলোতে সবাই হাত দেয়। ফলে সংক্রমিত হবার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে।সম্ভব হলে বাসার বাইরে কিছু খাবেন না।প্রয়োজনে রোজা রাখুন।
ঝ, বাইরে থেকে এসে কাপড় না বদলিয়ে সোফা কিংবা বিছানায় গা এলিয়ে দেওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। চেষ্টা করুন বাইরের জুতা আর ভেতরের জুতা আলাদা আলাদা রাখতে। চেষ্টা করুন বাইরের জুতা বাড়ির বা বাসার দরজার বাইরেই রাখার।
ঞ, মাস্ক এর মতো বাজার থেকে স্যানিটাইজারও মার্কেট আউট হয়ে যেতে পারে এই ভেবে মাস্ক বা স্যানিটাইজার কোনোভাবেই মজুদ করার চেষ্টা করবেন না। হাত ও ব্যবহার্য জিনিস পরিস্কার রাখুন।
ট, মোবাইল ফোনে নাকি টয়লেট থেকেও বেশি জীবাণু থাকে। তাই সেইফটি রক্ষার্থে আপনার ফোন ও নিত্য প্রয়োজনীয় গেজেট বা ইলেক্ট্রনিক্স এন্টিসেপ্টিক লিকুইড দিয়ে মুছে ফেলুন। এটা প্রতিদিনই করার চেষ্টা করুন।
ঠ, বাইরে বের হলে হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করতে পারেন।  বিশেষ বিশেষ জায়গা যেমন বাজার, স্কুল, লোকসমাগম হয় এমন আনহাইজেনিক কোন জায়গায় এই গ্লাভস ব্যবহার করতে পারেন। পরবর্তীতে বাসায় এসে তা নিরাপদ ও আবৃত স্থানে ফেলে দিন।
ড, ছেলেরা এই গরমে গরম থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য টুপি,রুমাল বা ক্যাপ ব্যবহার করেন। এটা চুলকে আবৃত করার জন্য দারুন একটি উপায় হতে পারে।  বোরকা,নিকাব ছাড়াও মেয়েরা স্কার্ফ বা হিজাব পরেন। তবে বাসায় এসে অবশ্যই এগুলো আলাদা খোলামেলা ও রোদেলা স্থানে রাখুন বা ধূয়ে ফেলুন।
ঢ, বাহির থেকে আসার পরই যে শুধু হাত ধোবেন এমনটা নয়। পাশাপাশি টাকা গোনা, মানিব্যাগ ধরা, বাইরের খবরের কাগজ পড়া, কোনো পার্সেল বা ফুড ডেলিভারী আসলে ধরার পর সাথে সাথে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন।
ণ, বাসার নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু জিনিস যেমন লিপজেল বা পেট্রোলিয়াম জেলি, লোশন, ক্রিম, টুথপেস্ট, তেল, ব্যথার ক্রিম ইত্যাদি চেষ্টা করুন পারসোনালি ব্যবহার করতে।
ত, অযথাই অমুক মিডিয়া, তমুক ফ্রেন্ড, এই নিউজ পেজ, সেই পাব্লিক ফিগার ইত্যাদির দেয়া পোস্ট বা কোনো খবর তথ্য যাচাই না করে শেয়ার করে গণমাধ্যমে আতঙ্ক তৈরি করবেন না। চেষ্টা করুন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কোনো বিশ্বস্ত মিডিয়া থেকে
তথ্য সংগ্রহ করার।
থ, সরকার, মিডিয়া, বিধর্মীরা খারাপ, ওরা মুসলমানদেরকে অত্যাচার করেছে তাই এ গজব- এগুলো বলার চেয়ে বরং নিজের ঈমানী অনুশীলন ও নেক আমল বাড়িয়ে দিন। দোয়া,দুরূদ,জিকির, তিলাওয়াত, নফল নামাজ,রোজা,ওজু,পবিত্রতা, দান,সদকা,মানবসেবা, পরোপকার, আত্মীয় পরিজন প্রতিবেশী ও অন্য সব ভাইয়ের হক আদায় করতে থাকুন। নিজের ওপর অন্যদের প্রাধান্য দিন। সর্বপ্রকার গুনাহ থেকে বিরত থাকুন।
মনে রাখবেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যখন আসে তখন সবার জন্যই বিপদ বয়ে আনে।
 আমি বেঁচে থাকলেই হলো এ ধরনের সংকীর্ণ ব্যক্তিকেন্দ্রীক ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মৃত্যু লেখা থাকলে তা হবেই। বিশ্বাসীদের জন্যই নির্ধারিত হবে শাহাদাৎ। সংক্রমণ বা ভাইরাসের নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত নাই। তকদীর তাকে পরিচালিত করে। অতএব যথাসম্ভব এড়িয়ে চলে এবং  সতর্কতা অবলম্বন করে আল্লাহর রহমত ও সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে।
 নিজের জায়গা থেকে নিজে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি কিভাবে আপনার পাশের মানুষদেরও এ বিপদ থেকে রক্ষা করা যায় তার জন্য আন্তরিক হোন। সুন্নাহভিত্তিক সমস্ত দোয়া ও আমল নিজে চর্চা করুন অন্যদের শিখতে সাহায্য করুন।
দ, স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়েছে বলে এখন যথেষ্ট সময় পেয়েছেন। তাই বলে বন্ধুদের সাথে আড্ডা, বাইরে বেড়ানো এগুলো কোনোভাবেই করবেন না। বাসায় থাকুন, বাসা বাড়ির কাজে মা-বোনদের সাহায্য করুন। সতর্কতা বজায় রাখুন।
ধ, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সচেতনতা অবলম্বন করুন। পারতপক্ষে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এড়িয়ে চলুন। মনে রাখুন আপনি যে-কোনো সময় যে-কারো থেকেই আক্রান্ত হতে পারেন। সে মোতাবেক নিজের চোখ-কান খোলা রাখুন।
ন, যারা ফ্রিল্যান্সার কিংবা রাত জাগার অভ্যাস আছে অথবা কোন কারণ ছাড়াই রাত জাগার বাতিক আছে তারা পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। পর্যাপ্ত ঘুম আপনার ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে। যার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যত বেশি সে তত বেশি ভাইরাসকে মোকাবেলা করতে পারবে।
প, মনে রাখবেন আমাদের এ দেশটি খুবই ছোট্ট। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। আমাদের বিশাল জনসংখ্যা যদি একটা প্রাকৃতিক মহামারীতে আক্রান্ত হয় তাহলে এটাকে মোকাবেলা করা অত্যন্ত দূরূহ হয়ে পড়বে। তাই সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যকেও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিন। নিজের মধ্যে কোনো শারীরিক পরিবর্তন দেখার সাথে সাথে হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
ফ, করোনাভাইরাসে যতগুলো মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন তার মধ্যে অধিকাংশ মানুষই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাই মনোবল হারাবেন না। ধৈর্য ধরুন। একটা বিষয় খেয়াল করুন যারা মারা গিয়েছেন তাদের অধিকাংশই বয়স্ক ৬০  বা তদুর্ধ বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ততটা
শক্তিশালী ছিল না দীর্ঘ মেয়াদি রোগ যেমন ফুসফুসের সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, অন্য ক্রোনিক রোগ ছিলো, এ ধরণের  মানুষ বেশি মৃত্যু বরণ  করেছেন।
ব, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের অভ্যাস গড়ে তুলুন। হেলদি ফুড ও হেলদি লাইফস্টাইল মেনটেইন করার মাধ্যমে আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরী করুন।  তাহলে যে কোনো ভাইরাসকেও আপনি প্রতিরোধ ও পরাস্ত করতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ।
ভ, যত্রতত্র ভীড় করবেন না। ৬ ফুট দুরত্ব বজায় রাখুন।।
জ্বর,সর্দি কাশির সাথে শ্বাষকস্ট থাকলে হাসপাতালে অবশ্যই যাবেন।
হাঁচি কাশির সময় মুখে রুমাল চেপে রাখবেন।
ছোট খাটো অসুস্থতায় অযথা হাসপাতালে যেয়ে ভীড়ের মধ্যে নিজের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াবেন না।
খোরাসান বিজিত হয়েছে। পঙ্গপালের আক্রমণ হয়েছে। https://bit.ly/39xUWuq
 পাকিস্তানে কি পরিমান ফসল ধ্বংস করেছে তা এই ভিডিও দেখলেই কিনঞ্চিৎ অনুমান করা যায়।https://bit.ly/2QUN3ZO
হিন্দুস্তানে মুসলমান নির্যাতন শুরু  হয়ে গেছে। সৌদী রাজপরিবারে দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গেছে (সৌদি কিং বৃদ্ধ হয়ে  গিয়েছে,যে কোন সময় তিনি মারা যেতে পারে,তিনি যদি মারা যান আসল খবর এত তাড়াতাড়ি প্রকাশ করতে দিবে না। যুবরাজরা মৃত্যুদণ্ডের মুখে)। তেলের দাম কমে গেছে,মুহুর্মুহু বাড়ছে স্বর্ণের দাম।
করোনা শুধু একটা অজুহাত মাত্র। করোনার অজুহাতের আড়ালে চলছে মাহদী ঠেকাও মঞ্চ তৈরির কাজ। সৌদী থেকে পাকিস্তানি ও বাংলাদেশিদের কারণ ছাড়াই বের করে দেয়া হচ্ছে। বায়তুল্লাহর সকল কোনায় কোনায় ফেস ডিটেক্টর ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কাবা প্রাঙ্গনে যে সৈন্যরা বর্তমান তারা মোটেও সৌদীর নয়, এরা সব আমেরিকান।
ব্যাংকগুলো দেউলিয়ার দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়ে গেছে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি কতদিন পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে আল্লাহ ভালো জানেন।https://bit.ly/3azTgly
বর্তমান বৈশ্বিক ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক ডামাডোল পরিস্থিতির কারণে কোনো সচেতন মুসলিম যদি কিছু শুকনো খাবার সংরক্ষণ করে রাখতে চায় তাহলে স্বাভাবিক বাজারে প্রভাব সৃষ্টি না করার শর্তে করতে পারবে। হাদীসে পাকে রাসুলুল্লাহ সাঃ শেষ যামানায় ফিতনার সময় এক বছরের অগ্রীম খাবার সংগ্রহ করে রাখতে বলেছেন।
করোনার কারনে সম্প্রতি বিতর্কিত দুটি ভুল মাসআলার অপনোদন।
১. করোনা ভাইরাস বিস্তৃতের আশংকায় জুমা ও জামাত বর্জন করা।
এ বিষয়ে সৌদী সরকার উম্মাহর স্বতঃসিদ্ধ পন্থার বিপরিত জুমা ও জামাতের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ ক্ষেত্রে সৌদী রাজকীয় আলেমগণ কুরআন ও হাদীসের অপব্যাখ্যার আশ্রয় গ্রহন করেছে।অথচ জিহাদের ময়দানে যেখানে শত্রুর আক্রমণের আশংকা নিশ্চিৎ, তবুও
শরীয়ত সেখানে জামাত পরিত্যাগ করার অনুমতি প্রদান করে নাই।
তাহলে একটি ধারণাপ্রসূত রোগ(করোনার) আশঙ্কার কারণে জামাতে নামাজ ছেড়ে দেয়া কীভাবে জায়েজ হতে পারে ?
 এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে।
{وإذا كنت فيهم فأقمت لهم الصلوة فالتقم طائفة منهم معك.وليأخذوا أسلحتهم.}
[سورة النساء 102]
অর্থাৎ: হে নবী।আপনি যখন তাদের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন এবং নামাজ পড়বেন,তখন (শত্রুর মোকাবেলায় যুদ্ধরত অবস্থায় নামাজ পড়ার নিয়ম হচ্ছে) মুসলিমদের একদল আপনার সাথে দাড়াবে (জামাতে নামাজ আদায় করবে) এবং তারা সাথে হাতিয়ার রাখবে।)
রাসূলুল্লাহ সা. কি আমাদের বলে দেননি- মহামারির সময় আমরা কী করব?
হ্যাঁ- বলেছেন-  আমরা যেন মহামারি আক্রান্ত এলাকায় প্রবেশ না করি
এবং যারা ওই এলাকায় অবস্থান করছে, তারা সেখান থেকে যেন বের না হয়।
তথায় কি রাসূল সা. জামাত এবং জুমু’আ ছেড়ে দেয়ার কথা বলেছেন? (নিশ্চয়ই না)
সাহাবায়ে কেরামের আমল।
হজরত উমর রা.এর শাসনামলে হিজরি সতেরো সনের শেষে ও হিজরি আঠারো সনের প্রারম্ভে শামের আমওয়াস অঞ্চলে প্লেগের মহামারি দেখা দিয়েছিলো। তিনি মুহাজির -আনসার সাহাবীদের সাথে করণীয় বিষয়ে পরামর্শ করেলেন-তখন কী মহামারির কারণে জামাত এবং জুমু’আ বন্ধ করা হয়েছিলো ? অথচ এই মহামারীতে ঐতিহাসিকদের মতে বিশহাজার মুজাহিদ সাহাবী শাহাদতবরণ করেছিলো। তন্মধ্যে আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রাযি. ও মুয়ায ইবনে জাবাল রাযি. উল্লেখযোগ্য।
আল্লাহ তা’আলা বলেন-
 ﴿استعينوا بالصبر والصلاة.سورة البقرة.١٥٣﴾
অর্থাৎ:(বিপদ আপদ ও সর্বাবস্থায়)
তোমরা নামাজ ও ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা কর।
তো- আমরা এই করোনা থেকে সাহায্য প্রার্থনা করবো মসজিদে  জামাতে নামাজ আদায় করে ?
(যেভাবে রাসূল সা.মসজিদে নামাজ আদায় করে সাহায্য চেয়েছেন।)
না কি জামাত ও জুমু’আ ছেড়ে দিয়ে   তাঁর কাছে সাহায্য চাইবো ?
রাসূল সা.ইরশাদ করেছেন –
 ﴿مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ  في جماعة فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللَّهِ﴾
 [رواه مسلم رقم الحديث ٦٥٧]
অর্থাৎ: যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করলো,সে আল্লাহর জিম্মাদারিতে চলে গেল।
আমাদের জন্য কী ইহা যথেষ্ট নয় যে,
আমরা আল্লাহর জিম্মাদারিতে উপনিত হয়ে গেলাম।
(করোনা ভাইরাসসহ সকল প্রকার বিপদ আপদ থেকে রক্ষা পেতে আল্লাহ তা’আলার জিম্মাদারি কী আমাদের জন্য যথেষ্ট নয়?
 আল্লাহ তাআলা বলেন-
 《أليس الله بكاف عبده》[سورة الزمر ٣٦]
 অর্থাৎ: আল্লাহ কী তার বান্দার পক্ষে যথেষ্ট নন।
আল্লাহর রাসূল সা. এক অন্ধ সাহাবী ;
যাকে রাহবরী করার মত কেউ না থাকা সত্ত্বেও জামাত ছাড়ার অনুমতি দেন নাই। অথচ তৎকালীন সময়ে মদিনায় বেশিহারে হিংস্র প্রাণীর সমাগম ছিলো। তাহলে কীভাবে সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য
জামাত ছাড়ার অনুমতি দেয়া যাবে কেবলমাত্র রোগের আশংকার কারণে ?
﴿لقد كان النبي صلي الله عليه وسلم
إذا حزبه أمر بادر الي الصلوة.﴾
 অর্থাৎ:রাসূল সা.এর আমল ছিলো,
 যখন কোনো পেরেশানী কিংবা মুসিবত পতিত হতো, সাথে সাথে নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন।
তাহলে এখন আমাদের ওপর “করোনা”মুসিবতের আশংকায় কীভাবে জুম’আ ও জামাত আমরা ছেড়ে দিতে পারি?
ইসলামী রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি শহরে জামে মসজিদ ছিলো,যেখানে অসংখ্য মুসলমান একত্রিত হয়ে নামাজ আদায় করতেন।
বিভিন্ন সময় মুসলমানগণ মহামারিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
ইসলামের ইতিহাসে মহামারির কারণে  উম্মতে মুসলিমার কোনো  আলেম জামাত, জুমু’আ ছেড়ে দেবার কিংবা মসজিদ বন্ধ রাখার ফতোয়া দিয়েছিলেন ?
২. আজানের মাসনুন বাক্যে পরিবর্তন।
সম্প্রতি কুয়েতের একটি আজান সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এক মুআজ্জিন তার আজানে হাইয়া আলাস সালাহ-এর স্থানে আলা সাল্লু ফি বুয়ুতিকুম বলে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
হাদীসের বর্ণনা ও সাহাবায়ে কেরামের আমল দ্বারা বুঝা যায়, আজানের মাসনুন বাক্যের মধ্যে পরিবর্তন করা জায়েয নেই। একান্ত বিশেষ প্রয়োজনে আজানের পরে ভিন্নভাবে ঘরে বা বাড়িতে নামায পড়ার ঘোষণা করা যেতে পারে।
যেমন নাফে’ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যাজনান নামক স্থানে এক শীতের রাতে ইবনে ওমর রা. আজান দিলেন। এরপর তিনি ঘোষণা করলেন, ‘তোমরা আবাসস্থলেই নামায আদায় করে নাও!’
পরে তিনি আমাদের জানালেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে বৃষ্টি বা শীতের রাতে মুয়াযযিনকে আজান দিতে বলতেন এবং সঙ্গে সঙ্গে একথাও ঘোষণা করতে বলতেন যে, ‘তোমরা আবাসস্থলেই নামায আদায় করে নাও!’ (সহিহ বুখারী, মুসলিম)
অঝোর বৃষ্টি ও প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় রাসূল সা. বেলালকে নির্দেশ দিতেন এভাবে আজান দিতে।
বর্তমান করোনা, পঙ্গপাল, জলবায়ু পরিবর্তন, দাবানলসহ বিভিন্ন মানবসৃষ্ট বিপর্যয়েঅবশ্যই আমাদের আল্লাহমুখি হতে হবে। এখনও আমাদের পাপাচার কি বন্ধ হয়েছে? এখনও কি আমরা আল্লাহর দিকে ফিরতে পেরেছি?
এখন সময় হয়েছে ধার্মিক ও মানবিক বোধে উজ্জীবিত হওয়ার। আল্লাহ আমাদের সবাইকেই তাওফিক দিন। আমীন।

লেখক:
মুহাদ্দিস, জামিয়া ইসলামিয়া লালমাটিয়া  মাদরাসা মুহাম্মদপুর ঢাকা
বিভাগীয় সম্পাদক, মাসিক মদিনা

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য